‘আজকের বৈঠকের বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না, কোনও আমন্ত্রণও পাইনি’, দাবি মুকুল রায়ের

‘আজকের বৈঠকের বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না, কোনও আমন্ত্রণও পাইনি’, দাবি মুকুল রায়ের
‘আজকের বৈঠকের বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না, কোনও আমন্ত্রণও পাইনি’, দাবি মুকুল রায়ের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ হেস্টিংসে আজ দলের সমস্ত পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠক হলেও সেখানে আজ অনুপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তাঁর গরহাজিরা প্রসঙ্গে এদিন মুকুল রায়ের দাবি, বৈঠকে তাঁকে আসতে বলা হয়নি। তাই তিনি যাননি। এদিকে, মুকুল রায়ের এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন, ‘আমি যতদূর জানি, খবর দেওয়া হয়েছিল।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাজ্য স্তরের নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করেন, দিলীপ ঘোষ। কিন্তু এই বৈঠকে অংশ নেননি মুকুল রায়-সহ বেশ কয়েকজন মুকুল ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা। বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, মুকুল রায় সদ্য করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা রায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। এই বিষয়ে এখন বেশ চিন্তায় রয়েছেন মুকুল রায় এবং পুত্র শুভ্রাংশু রায়।

আজকের বৈঠকে মুকুর রায়ের না থাকার প্রসঙ্গে খোদ বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, ‘আজকের বৈঠকের বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না। কোনও আমন্ত্রণও পাইনি। আর আমি এখন যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি। তাই এসব নিয়ে কিছু বলতে পারব না।’ এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘মুকুল রায়ের পারিবারিক সমস্যা। তাঁর স্ত্রী অসুস্থ। তাই আসতে পারেননি।’ এর পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, ‘আমার যতদূর জানা আছে, খবর দেওয়া হয়েছিল। উনি বলেছিলেন পারলে আসব।’

কিছুদিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে মুকুল রায়ের স্ত্রীকে দেখতে যাওয়ার পরই, তড়িঘড়ি মুকুলের স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখতে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সে নিয়ে মুকুল রায় বলেন, ‘উনি আমাকে বা অন্য কাউকে জানিয়ে হাসপাতালে যাননি। কাকে দেখতে গিয়েছিলেন তাও জানি না।’ এর জবাবে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছিলেন, ‘অসুস্থকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার আগে কাউকে জানিয়ে যেতে হয় নাকি!’ গোটা ঘটনায় মুকুল-দিলীপ সম্পর্কের শৈত্য কারও নজর এড়ায়নি। মঙ্গলবার বৈঠককে কেন্দ্র করে তা আরও একবার প্রকট হল!

এদিনের বৈঠকে হাজির হননি, মুকুল ঘনিষ্ঠ সব্যসাচী দত্ত, রাজীব ব্যানার্জিরাও। আর এইসব নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপির অন্দরে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। আজকের বৈঠক ভার্চুয়াল ছিল না। বরং এদিন সকলকেই ডাকা হয়েছিল। অথচ তাঁরা কেন আজকের বৈঠকে যোগ দেননি, সেই বিষয়ে দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে, রাজীব ঘনিষ্ঠদের কথায়, পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় অসুস্থ রয়েছেন, তাই এদিনের বৈঠকে যাওয়া হয়নি রাজীব ব্যানার্জির। তবে, রাজীব ব্যানার্জি নিজে থেকে এ বিষয়ে দলকে কিছুই জানাননি বলেই সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে বিজেপি নেতা-কর্মীরা কোনঠাসা। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাই ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের ঘরে ফেরানো থেকে শুরু করে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি, রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা এইসব বিষয়কে কেন্দ্র করে আগামী ১৯ জুন থেকে প্রতিবাদে পথে নামছে রাজ্য বিজেপি। আর সেই আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়েই আজ বৈঠক ছিল বিজেপির হেস্টিংসে দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে সব পদাধিকারীদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বৈঠকে ছিলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসু, জয়প্রকাশ মজুমদাররা। অন্যদিকে, উপস্থিত ছিলেন না মুকুল রায়, শুভ্রাংশু রায়, সব্যসাচী দত্ত, রাজীব ব্যানার্জিরা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মুহূর্তে বিজেপি নেতারা বেশ চাপে রয়েছেন। তার কারণ গতকালই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, দলবদলু এবং বিজেপির জয়ী বহু বিধায়কও নাকি তৃণমূলে যোগ দিতে তৈরি। এই মন্তব্যের পরেই বিজেপির অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তার উপর আজকের বৈঠকে মুকুল রায়দের উপস্থিত না হওয়া, সব মিলিয়ে ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি রাজ্য বিজেপির অন্দরে। যদিও দিলীপ ঘোষরা এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে নারাজ।