‘বিজেপি দলটা করতে পারলাম না, তাই ফিরে এলাম’! দল ছাড়া নিয়ে কী বললেন মুকুল রায়?

‘বিজেপি দলটা করতে পারলাম না, তাই ফিরে এলাম’! দল ছাড়া নিয়ে কী বললেন মুকুল রায়?
‘বিজেপি দলটা করতে পারলাম না, তাই ফিরে এলাম’! দল ছাড়া নিয়ে কী বললেন মুকুল রায়?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলেন। পদ্ম শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, প্রায় ৪ বছর পর, চেনা পরিমণ্ডলে, ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন সপুত্র মুকুল রায়। আজই তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন ঘটল মুকুল রায় এবং শুভ্রাংশু রায়ের।

আজ তৃণমূল ভবনে মুকুল রায়ের আনুষ্ঠানিক যোগদানে উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়– সহ তৃণমূলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব। পিতাপুত্রের একসঙ্গে তৃণমূলে ফেরায় খুশি ঘাসফুল শিবিরও। এদিন মুকুল এবং শুভ্রাংশু রায়কে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়ে, তিনি বলেন, ‘বিজেপি থেকে বেরিয়ে খুব ভাল লাগছে। নতুন আঙিনায় এসেছি, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে। আর এটা ভেবে ভাল লাগছে, বাংলা আবার তার নিজের জায়গায় ফিরবে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন মমতা।’ এর পাশাপাশি তাঁকে দল ছাড়ার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তরে বললেন, ‘বিজেপি দলটা করতে পারলাম না, করব না বলেই পুরনো ঘরে ফিরে এলাম। তবে, কেন আজকে ফিরেছি, এর একটা বিস্তারিত জবাব আছে। সেটা লিখিত আকারে আপনাদের দেব।’

এদিন মুকুল রায় দলে আসায় তৃণমূল কি আরও শক্তিশালী হল? এই প্রশ্নের জবাবে নেত্রী বলেন, ‘দল ইতিমধ্যেই শক্তিশালী। ভোটে বিপুল জয় পেয়েছি। সাধারণ মানুষ সঙ্গে আছেন। মুকুল পুরনো পরিবারের ছেলে। ওকে চমকে-ধমকে এজেন্সি দেখিয়ে মুকুলের উপরে কম অত্যাচার হয়নি। মুকুল নিজেও মানসিক শান্তি পেল। শরীরটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। মুখে বলতে পারত না। বিজেপি করা যায় না। বিজেপিতে যাঁরা আছে তাঁদের শোষণ এত বেশি। এত নির্দয়! মানুষকে মনুষ্যত্ব নিয়ে বাঁচতে দেয় না। মুকুলের চলে আসা এটাই প্রমাণ।’

অন্যদিকে এদিন মুকুল রায়ের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে মুকুল শিষ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ মুখ খোলেন। নিজের রাজনৈতিক গুরুকে ‘মীরজাফর’ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না। বললেন, ‘আমি ধর্মের সঙ্গে আছি।’ এদিন মহাভারতে কাহিনী মনে করিয়ে, যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ বলেন যে, ‘মহাভারতে অশ্বত্থমার জন্য দ্রোণাচার্য অধর্মকে সমর্থন করেছিল। আর দ্রোণাচার্যের মৃত্যু হয়েছিল তাঁর শিষ্য অর্জুনের হাতে। আজ আমি ধর্মের সঙ্গে থাকবো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমার শ্রীকৃষ্ণ।’

মুকুল রায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেন যে, ‘রাজনীতিতে আমরা মীরজাফরকে দেখছি। উনি যদি রাজনৈতিক চাণক্য হতেন, তাহলে ছেলেকে বীজপুর থেকে জেতাতে পারতেন। মীরজাফররা কখনো ভাল হতে পারে না। এই মিরজাফর বাংলার অনেক ক্ষতি করবে। তৃণমূল কংগ্রেস বাংলাকে যে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এই ঘটনায় তা প্রমাণিত হল।’ শুক্রবার যখন পুরনো দলে ফিরে আসছেন মুকুল, সে সময় দিল্লি থেকে সৌমিত্র বললেন, ‘মুকুল রায় কোনও চাণক্য নন, উনি মীরজাফর। এটা আজ প্রমাণিত হয়ে গেল।’

আবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, ‘মুকুল রায় আসায় দলের কোনও লাভ হয়নি যে ক্ষতি হবে৷’ রাজ্য বিজেপি-র তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে জয়প্রকাশ মজুমদার দাবি করেছেন, অবিলম্বে বিধায়ক পদ ছেড়ে দিন মুকুল৷

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজনীতিতে কোনও কিছুই স্থায়ী নয়। আর সেই কথাকে সত্যি প্রমাণিত করে, প্রায় ৪ বছর পর, ষের একবার সল্টলেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুকুর রায়ের গন্তব্য হল তৃণমূল ভবন। বেশ কিছুদিন ধরেই মুকুল রায়ের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা হাওয়ায় ভাসছিল। তবে, কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। একুশের নির্বাচনে শুভেন্দুকে আক্রমণ করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুকুলের প্রশংসা, নিজের এলাকা ছাড়া, নির্বাচনী প্রচারে মুকুল রায়কে সেভাবে না পাওয়া, সাম্প্রতিকে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট, মুকুল রায়ের স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া- একের পর এক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তাহলে কি ফের ঘরে ফিরছে ঘরের মানুষ? প্রকাশ্যে তেমন কোনও খবর না থাকলেও, তলে তলে যে তার প্রস্তুতি চলছিল, আজ সপুত্র মুকুল রায়ের তৃণমূলে ফেরার পর, সেটাই আবার প্রমাণিত হল।

এদিকে, রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিজেপিতে কোণঠাসা হয়ে এবং গুরুত্ব না পেয়েই ফের তৃণমূলে ফিরলেন মুকুল রায়। কেন দল ছাড়লেন, তা লিখিতভাবে জানাবেন বলেও, এটা পরিষ্কার করে দিলেন যে, ‘যা পরিস্থিতি, তাতে কেউ বিজেপি করবে না।’