পথ বদলেছে, বদলেছে শিবির, তাতে কী! বিধানসভায় কাছাকাছি মুকুল-শুভেন্দু!

পথ বদলেছে, বদলেছে শিবির, তাতে কী! বিধানসভায় কাছাকাছি মুকুল-শুভেন্দু!
পথ বদলেছে, বদলেছে শিবির, তাতে কী! বিধানসভায় কাছাকাছি মুকুল-শুভেন্দু!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আগে দু’জনই এক রাজনৈতিক শিবিরের সদস্য ছিলেন। দুজনেই একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিতে লড়াই করেছেন। নির্বাচনে জিতে, বিধায়কও হয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি শিবির বদল হয়েছে। সেই সঙ্গে মতাদর্শেও এসেছে পরিবর্তন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর, একজন ফিরে গিয়েছেন পুরনো দলে। অন্যজন রয়ে গিয়েছেন বিজেপিতেই।

দল বদল, পথ বদলের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দূরত্ব। তবে সেটা বাইরে। অন্তত বিধানসভার অন্দরের ছবিটা তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন। কেন? কারণ সেখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য ছবি। দূরত্ব কমিয়ে কাছাকাছি মুকুল-শুভেন্দু! হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন, মুকুল-শুভেন্দু। তবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে, এই দুই নেতার মধ্যে সখ্যতা বেড়েছে বা তাঁদের মতাদর্শ ফের এক হয়ে গিয়েছে। তেমন কিছুই নয়। আসলে বিধানসভা কক্ষে একজন আসন বদলে অপর জনের আরও কাছাকাছি এসেছেন।

আসল বিষয়টা হল, বিধানসভায় মুকুল রায়ের বসার আসনটি বদলে গিয়েছে। সম্ভবত, তৃণমূল নেতৃত্বের ইচ্ছেতেই তেমনটা হয়েছে। বিধানসভার অধিবেশন শুরুর দিন ৩ নম্বর ব্লকের ৪২ নম্বর আসনে বসেছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক। তবে, আজ থেকে তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে ২ নম্বর ব্লকের ১৫ নম্বর আসনে। ঠিক শুভেন্দু অধিকারির বাঁ দিকে।

কিন্তু কেন এই আসন পরিবর্তন? এর পিছনে কি রাজ্যের শাসকদলের কোনও রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে? অন্তত তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের মতে, শিবির বদলালেও, খাতায়-কলমে এখনও মুকুল বিজেপিরই বিধায়ক। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে জমা পড়েছে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার আবেদন। তাছাড়া আগামিদিনে এই বিষয়ে আইনি পথে হাঁটারও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই মনে করা হচ্ছে, মুকুল রায়ের এভাবে আসন বদল, সম্ভবত তাঁকে বিজেপি বিধায়ক প্রমাণে শাসকদলের মরিয়া চেষ্টা।

এদিকে, গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ খোলেননি মুকুল রায়ও। কিন্তু, কেবলমাত্র PAC চেয়ারম্যান পদের জন্যই কি শাসকদলের এই কৌশল? প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিধানসভার তরফে অবশ্য এই আসন বদলকে কেবলমাত্র কোভিড পরিস্থিতির জের হিসেবেই দেখানো হচ্ছে।