ঘরের ছেলে ফিরল ঘরে! অবশেষে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরলেন সপুত্র মুকুল রায়

ঘরের ছেলে ফিরল ঘরে! অবশেষে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরলেন সপুত্র মুকুল রায়
ঘরের ছেলে ফিরল ঘরে! অবশেষে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরলেন সপুত্র মুকুল রায়

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রায় ৪ বছর পর ঘরে ফিরলেন সপুত্র মুকুল রায়। পুরনো দলে, চেনা পরিবেশ, চেনা সঙ্গীদের সঙ্গে ফের নয়া উদ্যমে রাজনৈতিক ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার লক্ষ্যে তৃণমূলে ফিরলেন মুকুল রায়। সঙ্গে শুভ্রাংশু রায়ও। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেন। পিতাপুত্রের একসঙ্গে তৃণমূলে ফেরায় খুশি ঘাসফুল শিবিরও। এদিন তাঁকে এবং শুভ্রাংশু রায়কে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়ে, মুকুল রায় বলেন, ‘বিজেপি থেকে বেরিয়ে খুব ভাল লাগছে। নতুন আঙিনায় এসেছি, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে। আর এটা ভেবে ভাল লাগছে, বাংলা আবার তার নিজের জায়গায় ফিরবে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন মমতা।’

রাজনীতিতে স্থায়ী বলে কিছু হয় না। কথা যে কতোটা সত্যি তা আবারও একবার প্রমাণ হল। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দূরত্ব ক্রমশ প্রকট হচ্ছিল মুকুল-মমতার। সেই দূরত্ব এবং সম্পর্কের ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন ২০১৭ সালে রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সঙ্গী মমতার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে, বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়।

কিন্তু আবারও চাকা ঘুরল। ওই যে রাজনীতিতে কোনও কিছুই স্থায়ী নয়। আর সেই কথাকে সত্যি প্রমাণিত করে, প্রায় ৪ বছর পর, ফের একবার সল্টলেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুকুর রায়ের গন্তব্য হল তৃণমূল ভবন। অন্যদিকে, একই সময়ে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে তৃণমূল ভবনের দিকে রওনা হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়। উদ্দেশ্য, মুকুল রায়ের ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের তৎকালীন সর্বভারতীয় সম্পাদক মুকুল রায়। পাশে ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কেন, কী ভেবে তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্যও রেখেছিলেন। আর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রায় ৫ মাস আগে থেকেই বন্ধ করেছিলেন তৃণমূল ভবনে যাওয়া। আবার প্রায় ৪ বছর পর তৃণমূল ভবনে পা দিলেন মুকুল রায়, ফের ধরলেন ঘাসফুল শিবিরের পতাকা।

২০২০ সালে দলের হয়ে ভাল কাজ করার পুরস্কার হিসেবে বিজেপিতে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ পেয়েছিলেন মুকুল রায়। এদিকে, একুশের বিধানসভা ভোটে প্রায় প্রচার ছাড়াই কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জিতেছেন তিনি। এরপরেও বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো, শুভেন্দু অধিকারীকে, মুকুল রায়ের তুলনায় যিনি বিজেপিতে অনেক নবীন। ফলে একটা অভিমান ছিলই বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’র।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই মুকুল রায়ের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা হাওয়ায় ভাসছিল। তবে, কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। একুশের নির্বাচনে শুভেন্দুকে আক্রমণ করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুকুলের প্রশংসা, নিজের এলাকা ছাড়া, নির্বাচনী প্রচারে মুকুল রায়কে সেভাবে না পাওয়া, সাম্প্রতিকে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট, মুকুল রায়ের স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া- একের পর এক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তাহলে কি ফের ঘরে ফিরছে ঘরের মানুষ? প্রকাশ্যে তেমন কোনও খবর না থাকলেও, তলে তলে প্রস্তুতি চলছিল, আজকের পর সে বিষয়ে আর কোনও সন্দেহই নেই।

এদিন কলকাতা পুলিশের গাড়ি এসকর্ট করে এবং নিরাপত্তা দিয়েই সল্টলেকের বাড়ি থেকে তৃণমূল ভবনে মুকুল রায়কে পৌঁছে দেয়৷ এদিন তাঁর সঙ্গে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তাও দেখা গিয়েছে৷ এদিকে আজ বাড়ি থেকে বেরনোর সময় অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে কিছু বলতে চাননি মুকুল রায়। ছেলে শুভ্রাংশুও তাঁর সঙ্গেই তৃণমূল ভবনে যান৷ এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাও মুকুল রায়ের যোগদান উপলক্ষে তৃণমূল ভবনে উপস্থিত ছিলেন।