বাড়ি বিক্রি করে নাতনিকে পড়ানো সেই অটোচালক দাদু পেলেন ২৪ লাখ টাকা অনুদান! মুহূর্তেই ভাইরাল নেটদুনিয়ায়

বাড়ি বিক্রি করে নাতনিকে পড়ানো সেই অটোচালক দাদু পেলেন ২৪ লাখ টাকা অনুদান! মুহূর্তেই ভাইরাল নেটদুনিয়ায় / Image Source- Instagrammed By @officialhumansofbombay
বাড়ি বিক্রি করে নাতনিকে পড়ানো সেই অটোচালক দাদু পেলেন ২৪ লাখ টাকা অনুদান! মুহূর্তেই ভাইরাল নেটদুনিয়ায় / Image Source- Instagrammed By @officialhumansofbombay

নাতনির উচ্চশিক্ষার জন্য বিক্রি করেছিলেন নিজের বাড়ি। নিজের চালানো অটোই হয়ে উঠেছিল তাঁর বর্তমান বাসস্থান৷ এবার মুম্বইয়ের সেই অটোচালক দাদুই পেলেন ২৪ লক্ষ টাকা অনুদান। যা উঠে এসেছে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে।
মুম্বইয়ের অটোচালক মিঃ দেশরাজের হৃদয়বিদারক কাহিনীটি ‘হিউম্যানস অফ বোম্বাই’ পেজ থেকে প্রকাশ হওয়া মাত্রই ভাইরাল হয়েছিলেন তিনি। তামাম সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর গিয়ে পরে তাঁর ওপর। এক সাক্ষাৎকারে মিঃ দেশরাজ জানিয়েছিলেন, তাঁর দুই ছেলের মৃত্যুর পরে পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই এসে পড়েছে। পরিবারের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অটোরিকশা চালিয়ে উপার্জনের চেষ্টা করছিলেন তিনি। যদিও উপার্জনের বেশিরভাগ অংশই নাতি নাতনিদের পড়াশোনার পিছনেই খরচ হতো।

ঠিক এই সময়ই তাঁর নাতনি দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ পায়। তখন সেই নাতনিটি বিএড কোর্সের জন্য দিল্লিতে যেতে চায়। মিঃ দেশরাজ তখন বুঝেছিলেন সামান্য অটোর উপার্জনের টাকায় সেই খরচ তিনি বহন করতে পারবেন না। তাই নাতনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিক্রি করে দেন নিজের বাড়ি। তারপর থেকে নিজের অটোই হয়ে উঠেছিল তাঁর বাসস্থান। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, “আমাকে যে কোনও মূল্যে নাতনির স্বপ্নগুলি পূরণ করতে হতো। তাই আমি আমাদের বাড়ি বিক্রি করে তার ফি দিয়েছিলাম।”

মিঃ দেশরাজের এই কাহিনী নেটদুনিয়ায় শেয়ার হওয়ার পর হাজার হাজার নেটিজনতার হৃদয় ছুঁয়েছে তা। তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেও উৎসুক হয়েছেন সকলে। সেই উদ্দেশ্যেই গুঞ্জন রট্টি নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী, মিঃ দেশরাজের জন্য একটি তহবিল সংগ্রহ করা শুরু করেছিলেন। ইতিমধ্যেই যার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে ২০ লক্ষ ডলার।

সম্প্রতি ‘হিউম্যানস অফ বোম্বাই’ একটি ভিডিও আপডেটের মাধ্যমে জানিয়েছে, ক্রাউডফান্ডিং মাধ্যমে ২৪ লাখ টাকার একটি চেক পেয়েছেন অটোচালক মিঃ দেশরাজ। ক্যাপশনে লেখা, “দেশরাজ যে সমর্থন পেয়েছেন তা অপরিসীম! কারণ আপনারা সকলেই তাকে সাহায্য করার পথে এগিয়ে এসেছিলেন। এখন তাঁর মাথার ওপর একটি ছাদ রয়েছে, এবং তিনি তাঁর নাতনিটিকে শিক্ষিত করে তুলতেও সক্ষম হবেন!”

দেখুন ভিডিওটি-

সদ্য প্রকাশিত এই ভিডিওটিও যথারীতি ভাইরাল হয়ে উঠেছে। নেটিজেনদের মনও জয় করে নিয়েছে নিমেষেই। অজস্র ভিউ এবং লাইক-শেয়ার-কমেন্টে ভরে উঠেছে তা। “হৃদয়গ্রাহী”,লিখে মন্তব্যও করেছেন এক নেটিজেন। অন্য আরেকজন বলেন, “আমি খুবই খুশি। যারা তাঁকে সাহায্য করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ।”

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.