নাচের প্রতিযোগিতার টিকিট বিক্রির অর্থে অলিম্পিকে পা রেখেছিলেন ভারতের এই খ্যাতনামা মহিলা অলিম্পিয়ান!

নাচের প্রতিযোগিতার টিকিট বিক্রির অর্থে অলিম্পিকে পা রেখেছিলেন ভারতের এই খ্যাতনামা মহিলা অলিম্পিয়ান!
নাচের প্রতিযোগিতার টিকিট বিক্রির অর্থে অলিম্পিকে পা রেখেছিলেন ভারতের এই খ্যাতনামা মহিলা অলিম্পিয়ান!

ম্যারি ডি’সুজা সিকুইরা। ভারতীয় ক্রীড়া জগতের উজ্জ্বল এক নাম। অ্যাথলেটিকস ও হকিতে একাধিক পদক জয়ের পাশাপাশি মুম্বই থেকে দেশের প্রথম মহিলা অলিম্পিয়ানও তিনি। তবে এ কথা হয়তো অনেকেই জানেন না অলিম্পিকে যাওয়ার জন্য কোনও রকম সরকারি সাহায্যই মেলেনি ম্যারির। অগত্যা, বন্ধুদের সঙ্গে মিলে একটি নাচের প্রতিযোগিতার টিকিট বিক্রির অর্থেই অলিম্পিকে পা রেখেছিলেন খ্যাতনামা এই অ্যাথলিট। তবে মানুষ আজ তাঁকে প্রায় ভুলতেই বসেছে।

ছেলেবেলা থেকেই কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই হকি খেলতেন, দৌড়াতেন ম্যারি। তাঁর দাদাদের দেখেই খেলা শিখেছিলেন তিনি। রক্ষণশীল পরিবারে মেয়ের খেলা নিয়ে উৎসাহও ছিল না তেমন। কিন্তু এই ম্যারির মুম্বইয়ের প্রথম মহিলা অলিম্পিয়ান হিসেবে পা রেখেছিলেন অলিম্পিকে। ১৯৫২ সালে ফিনল্যান্ড অলিম্পিকে প্রথম ডাক পান ম্যারি। কিন্তু সরকার থেকেও মহিলাদের খেলা নিয়ে তেমন মাথাব্যথা ছিল না। তাই সেসময় সরকারের তরফে অলিম্পিকে যাওয়ার বিমানের টিকিটের অর্থও পাননি তিনি। তবে এত সহজে হাল ছাড়ার পাত্রী ম্যারি ছিলেন না। বন্ধুরা মিলে আয়োজন করলেন নাচের প্রতিযোগিতার। আর সেই প্রতিযোগিতার টিকিটের অর্থেই প্রথম অলিম্পিক যাত্রা ম্যারির।

অলিম্পিকের বাইরেও এশিয়ান গেমসে দারুণ নজর কেড়েছিলেন ম্যারি। ১৯৫১ এবং ১৯৫৪ এশিয়ান গেমসে পদকও রয়েছে তাঁর। ২০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ এবং ১০০ ×৪ রিলেতে পদক জেতেন। শুধু অ্যাথলেটিকসই নয়, ম্যারি চুটিয়ে খেলেছেন হকি, ব্যাডমিন্টন এবং রেলওয়ের টেবিল টেনিসও। তাঁর অসাধারণ কৃতিত্বের ফলস্বরূপ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয় তাঁর। লেডি মাউন্টব্যাটনও তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

খেলাধুলা ও গেমসে আজীবন কৃতিত্বের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ পুরস্কার ধ্যানচাঁদ পুরষ্কারের প্রাপক ম্যারি। পরবর্তীতে টাটা গ্রুপের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে রেলওয়েতে ‘ওয়েলফেয়ার ম্যানেজার’ হিসেবে যোগদান করেন। শেষ পর্যন্ত ক্রীড়া কর্মকর্তা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন ম্যারি। ভারতীয় ক্রীড়া জগতে তাঁর অসাধারণ কৃতিত্ব এবং কঠিন লড়াইয়ের জেরে আজ তিনি দেশের অধিকাংশ মানুষের অনুপ্রেরণা। ম্যারির উজ্জ্বল কীর্তি আজও স্মরণীয়।