লখিমপুরে ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর ছেলে ও বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে!

লখিমপুরে ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর ছেলে ও বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে!
লখিমপুরে ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর ছেলে ও বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশ কাণ্ডে অবশেষে খুনের মামলা দায়ের হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে। রবিবার উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে গতকাল কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র ও রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব মৌর্যর সফরের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রের নয়া তিন কৃষি আইনের প্রতিবাদে সকাল থেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন এলাকার কৃষকরা। অভিযোগ, সেই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়ের একটি গাড়ি ৪ কৃষককে পিষে দেয়। সেই গাড়িতে ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। লখিমপুর খেরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরুণ কুমার সিং জানিয়েছেন, ওই সংঘর্ষে ৪ কৃষক সহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, অজয় মিশ্রের দাবি, তাঁর ছেলে কনভয়ে ছিল না। থাকলে তাকেও পিটিয়ে মেরে ফেলত কৃষকরা।

সেই ঘটনায় অবশেষে অজয় কুমার মিশ্রের ছেলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হল। এছাড়াও একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, গতকালের কৃষক আন্দোলন ঘিরে হিংসার ঘটনায় মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন কৃষক ছিলেন বলেই জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় কুমার মিশ্র কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে বলেছিলেন, ’১০-১৫ জনের প্রতিবাদ’। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই রবিবার কৃষকরা পথ আটকে প্রতিবাদ দেখাচ্ছিল। মন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তেই বিপর্যয় ঘটে। গাড়ির ভিতরে বসা যাত্রীদের রক্ষা করতে গিয়েই চাপা পড়ে যান গাড়িটি ঘিরে আন্দোলনকারী ৪ কৃষক।

বিকেইউ-র রাকেশ টিকাইত এবং যৌথ কিষাণ মোর্চা-সহ বেশ কয়েকজন কৃষক নেতা দাবি করেছিলেন, রবিবার হিংসায় জড়িত থাকার ঘটনায় অজয় মিশ্র এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হোক। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় ​​মিশ্রের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত তাঁর ভিডিওর বেশ কিছু মন্তব্য শোনার পর, টিকাইত মন্ত্রীর গ্রেফতারের দাবি জানান এবং বলেন, গত ১০ দিন ধরে এই অঞ্চলের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

কৃষক নেতা দর্শন পাল জানিয়েছেন, ‘কৃষকরা হেলিপ্যাড ঘেরাও করার পরিকল্পনা করেছিল। মন্ত্রীদের বাধা দিতেই এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল। ঘেরাও অভিযান শেষ হতেই তারা যখন ফিরে আসছিলেন, সেই সময়ই তিনটি গাড়ি আসে এবং কৃষকদের পিষে দেয়। একজন কৃষকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এবং অপরজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।’

যদিও গতকালই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র তাঁর ছেলে আশীষ মিশ্রের গাড়িতে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ঘটনাস্থলেও ছিল না। ওখানে কিছু দূষ্কৃতী দলীয় কর্মীদের উপর লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে আক্রমণ করে। যদি আমার ছেলে ঘটনাস্থলে থাকত, তবে ও জীবিত অবস্থায় ফিরত না। আমার ছেলে উপমুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিল। আমি উপ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলাম।’

পরিস্থিতি যাতে নাগালের বাইরে না বেরিয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লখিমপুরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারাও। এদিকে, কৃষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লখিমপুর খেরির ঘটনার প্রতিবাদে গোটা দেশজুড়ে জেলাশাসকদের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হবে। তাঁরা মৃতদের পরিবার পিছু ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সদস্যর সরকারি চাকরির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মন্ত্রী-পুত্রের শাস্তির দাবিও তোলা হয়ছে। এই দাবিগুলি পূরণ না করা হলে কৃষকদের শেষকৃত্যও করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, এদিন ভোরেই উত্তর প্রদেশ পৌঁছেছেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত। এছাড়াও কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ভূপেশ বাঘেল, সমাজবাদী নেতা অখিলেশ যাদবেরও যাওয়ার কথা। তবে, এদিন ভোরবেলাতেই প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে লখিমপুর যাওয়ার পথে আটক করে পুলিশ। ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের বিমানও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাধা দেওয়া হয়েছে অখিলেশ যাদবেরও গাড়িকেও।

আবার আজই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, আবির রঞ্জন বিশ্বাস এবং সুস্মিতা দেব লখিমপুরে যাবেন। তবে, পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে তার জন্য তাঁদেরও গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেই জানা গিয়েছে।