বইপ্রেমী! আবর্জনা ঘেঁটে কেজি দরে বেচে দেওয়া বই কিনেই আস্ত এক লাইব্রেরি গড়ার স্বপ্ন বাংলার এই যুবকের

বইপ্রেমী! আবর্জনা ঘেঁটে কেজি দরে বেচে দেওয়া বই কিনেই আস্ত এক লাইব্রেরি গড়ার স্বপ্ন বাংলার এই যুবকের / নিজস্ব চিত্র
বইপ্রেমী! আবর্জনা ঘেঁটে কেজি দরে বেচে দেওয়া বই কিনেই আস্ত এক লাইব্রেরি গড়ার স্বপ্ন বাংলার এই যুবকের / নিজস্ব চিত্র

বইকে ভালবেসে ‘বইপ্রেমী’ তো অনেকেই হতে পারেন! নদিয়ার ভাতজাংলার কালীপুরের বাসিন্দা মলয় বসাকের কাছে বইয়ের প্রতি ভালোবাসাটা একটু অন্যরকমই! আবর্জনার মধ্যে থেকে বেছে বেছে বইয়ের সন্ধান করেন তিনি। কেজি দরে বেচে দেওয়া বই নিয়ে আসেন নিজের টিনের ঘরে। এভাবেই আস্ত এক লাইব্রেরি গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁর আগামীর পথ চলা শুরু…

অভাবী সংসার। উপার্জনও সেরকম নেই৷ তাই ছেলেবেলা থেকেই অন্যের কাছ থেকে চেয়েচিন্তে অথবা লাইব্রেরি থেকে বই ধার নিয়েই চলত মলয়ের পড়াশোনা। যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ফেরত দিতে হতো। ফলে এক বই বেশিদিন নিজের কাছে রেখে পড়া হতো না মলয়ের। যা বইয়ের প্রতি টান আরও বাড়িয়ে তুলেছিল তাঁর। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় নামি দামি বই চাইলেও কেনা হয়ে ওঠেনি আর।

বইপ্রেমী! আবর্জনা ঘেঁটে কেজি দরে বেঁচে দেওয়া বই কিনেই আস্ত এক লাইব্রেরি গড়ার স্বপ্ন বাংলার এই যুবকের / নিজস্ব চিত্র
বইপ্রেমী! আবর্জনা ঘেঁটে কেজি দরে বেঁচে দেওয়া বই কিনেই আস্ত এক লাইব্রেরি গড়ার স্বপ্ন বাংলার এই যুবকের / নিজস্ব চিত্র

বড় হয়ে বইয়ের প্রতি টান বাড়ল আরও। আর তারপর থেকেই পুরোনো বই কেনার দিকেই ঝোঁক বাড়ল তাঁর। পরিত্যক্ত লোহা, প্লাস্টিক ভাঙ্গা বা বিভিন্ন আবর্জনার মধ্যে উঁকি দেওয়া বই তাকে দেখে যেন হাতছানি দেয়। তাই সেসবই সংগ্রহ করে নিজের ঘরে নিয়ে আসেন মলয়। বর্তমানে চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশিই টিউশনিও পড়ান তিনি। তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই নিয়মিত পুরোনো বই কেনেন মলয়। এভাবেই এখনও পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার বই সংগ্রহও করে ফেলেছেন তিনি। তাঁর টিনের ঘরের মেঝেতেই থরে থরে সাজানো সেসব বই।

তবে মলয়ের দু-চোখ আজও অন্য স্বপ্নেই মশগুল। তিনি চান আস্ত এক লাইব্রেরি গড়তে। যেখানে তিনি সংরক্ষণ করে রাখবেন বহু পুরনো দুষ্প্রাপ্য বই। আলমারিতে থরে থরে সাজানো থাকবে সেগুলি। এই ব্যাপারে তিনি বেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, সঙ্গে আশাবাদীও। স্বনির্ভর হয়ে উঠলেই সংসারে ফিরবে স্বচ্ছলতা। আর তারপরই নিজের ছোট্ট ঘরে লাইব্রেরি বানাবেন তিনি। যা থেকে তারই মতো বহু অভাবী পরিবারের বই পিপাসুরা সাহায্য পেতে পারেন। বিনামূল্যেই পড়তে পারেন বই।

এককথায় ভাতজাংলার মলয়ের এখন সর্বক্ষণের সঙ্গী শুধু বই আর বই। সেখানেই ডুবে রয়েছেন তিনি। সেই বই-ই তাঁকে অনুপ্রেরণা যোগায় আগামীর। অবসাদ কাটিয়ে আলোর লক্ষ্যে ফেরাতে বইয়ের থেকে বড় বন্ধু আর নেই মলয়ের।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.