সার্কের মঞ্চ থেকে করোনা মোকাবিলা ও প্রতিষেধক সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ডাক মোদীর

সার্কের মঞ্চ থেকে করোনা মোকাবিলা ও প্রতিষেধক সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ডাক মোদীর
সার্কের মঞ্চ থেকে করোনা মোকাবিলা ও প্রতিষেধক সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ডাক মোদীর / ছবি সৌজন্যে- Screenshot Facebook Live Video By Narendra Modi Official Facebook Page

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত ও ভারত মহাসাগরীয় বেশ কিছু দেশের স্বাস্থ্যসচিবদের নিয়ে ডাকা ভার্চুয়াল বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতে করোনা সঙ্কটের মোকাবিলায় ও প্রতিষেধক সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলেন তিনি। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও।

করোনার মতো মহামারীর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীদিনে সার্ক ও সম-মনোভাবাপন্ন দেশগুলির মধ্যে আরও বেশি করে যোগাযোগ বাড়ানোর দরকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভূটান, পাকিস্তান, মলদ্বীপ, আফগানিস্তান, সেশেলস ও মরিশাসের স্বাস্থ্যকর্তারা।

বৃহস্পতিবার এই ভার্চুয়াল বৈঠকে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, অধিকাংশ দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দাবি করেছিলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই প্রান্তে জনঘনত্ব বেশি থাকার কারণে করোনা অতিমারিতে মৃত্যুহার ব্যাপক হবে। তবে দেখা গেছে যে, বিশ্বের অন্য প্রান্তের তুলনায় এশিয়ার এই অংশে মৃত্যুর হার তুলনামূলক অনেক কম। অন্যদিকে, আগামীতে এই ধরনের মহামারী বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুতর সঙ্কটের মোকাবিলায় বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রথমত, এই দেশগুলির মধ্যে চিকিৎসক এবং নার্সদের জন্য বিশেষ ভিসার ব্যবস্থা করা দরকার, যাতে কোনও দেশে কোনও স্বাস্থ্য সঙ্কট দেখা দিলে, সেই দেশের অনুরোধে, অন্য দেশের স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারেন সাহায্যের জন্য।

দ্বিতীয়ত, নিজেদের মধ্যেই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দেশগুলির মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা চালু করার কথাও তিনি বলেন। এছাড়া করোনার টিকা আলাদা আলাদা দেশের মানুষের মধ্যে কেমন কাজ করছে, সেই তথ্য নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে গবেষণার কাজে ব্যবহার কথাও তিনি বলেছেন। বিদেশমন্ত্রক সূত্রের দাবি, ভারতের এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তানও।

এই ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রতিনিধি আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি আগামীতে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেন। করোনা মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা যে খুবই প্রয়োজন, তা একবাক্যে মেনে নিয়েছে বৈঠকে উপস্থিত সব দেশ। পাকিস্তান ছাড়া, বৈঠকে উপস্থিত সব দেশই প্রতিষেধক ও ওষুধ দিয়ে সাহায্য করার জন্য ভারতকে ধব্যবাদ জানিয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে এই ভার্চুয়াল বৈঠককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিবদের এই বৈঠকে কেন এভাবে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকে মনে করছেন যে, করোনা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে, গত কয়েক বছর ধরে কার্যত গুরুত্ব হারানো সার্ক-এ নতুন করে প্রাণসঞ্চার করতে চাইছে কেন্দ্র। আর সেই জন্যই এই করোনা সঙ্কটের মোকাবিলায় একটি সার্ক তহবিল গঠন করেছিল ভারত আগেই।

তাছাড়া, নিয়মিত সার্ক দেশগুলিকে করোনা মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়েছে ভারত। পরবর্তী সময়ে পাঠানো হয়েছে করোনার টিকাও। এই সব বিষয় এবং এর সঙ্গে সার্কের আগের প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য রাখলেন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি করোনা সঙ্কটকে সামনে রেখে ভারত যেভাবে সার্কের মঞ্চকে জাগাতে চাইল, তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আরো পড়ুনঃ   শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তিনটি এক্সপ্রেস ও ৬৭টি লোকাল ট্রেন বাতিল