অভিনব কায়দায় প্রতারণা! কলকাতার বুকে এটিএম না ভেঙেই ৪০ লক্ষ টাকা লুট! কিন্তু কীভাবে?

অভিনব কায়দায় প্রতারণা! কলকাতার বুকে এটিএম না ভেঙেই ৪০ লক্ষ টাকা লুট! কিন্তু কীভাবে? / প্রতীকী ছবি
অভিনব কায়দায় প্রতারণা! কলকাতার বুকে এটিএম না ভেঙেই ৪০ লক্ষ টাকা লুট! কিন্তু কীভাবে? / প্রতীকী ছবি

ভাঙা হচ্ছে না এটিএম। অথচ অভিনব উপায়ে বের করে নেওয়া হচ্ছে টাকা। এভাবেই কলকাতার বুকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা লুট হয়ে গিয়েছে। গত ৯ দিনে কলকাতার নিউ মার্কেট, যাদবপুর ও কাশীপুর থানা এলাকায় বিভিন্ন এটিএম থেকে লুট করা হয়েছে এই টাকা। অভিনব এই প্রতারণার ঘটনায় কার্যত তাজ্জব বনে গিয়েছেন শহরের পুলিশবাহিনীও৷ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তদন্ত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ১৪ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে নিউমার্কেট, কাশীপুর, যাদবপুরের তিনটি এটিএম থেকে ৩৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। হিসেব মতো, নিউ মার্কেটের এটিএম থেকে খোয়া গিয়েছে ১৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, কাশীপুরের এটিএম থেকে ৭ লক্ষ টাকা ও যাদবপুরের এটিএম থেকে ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা খোয়া গিয়েছে। সমস্ত কাজটাই হচ্ছে নীরবে। এটিএমও থাকছে অক্ষত। ফলে কেউ টেরও পাচ্ছেন না। প্রায় নীরবেই শহরের একাধিক এটিএম থেকে এভাবে চুরি যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ টাকা।

কিন্তু কীভাবে হচ্ছে এই চুরি? পুলিশ সূত্রে খবর, ব্যাঙ্কের কমিউনিকেশান চ্যানেলের মাঝে ঢুকে পড়ছে হ্যাকাররা। এটিএমের ভিতরে বিশেষ যন্ত্র বসিয়ে ব্যাঙ্কের সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। সেই যন্ত্রটিই তখন হয়ে উঠছে ব্যাঙ্কের হোস্ট। তারা এটিএম-এর নির্দেশগুলিকে রেপ্লিকেট করছে। তার ফলে খুব সহজেই এটিএম না ভেঙেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। একাধিক এটিএমে এই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেই টাকা তোলার কথা জানতে পারছে না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও।

উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্যে কার্যত লকডাউনে রাস্তাঘাট ফাঁকা। ফলে বেশিরভাগ এটিএমই রক্ষীবিহীন, অরক্ষিত। সেই ফাঁকেই চলছে টাকা লুটপাট। বিশেষজ্ঞদের অবশ্য দাবী, এটিএম পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই জালিয়াতির কাণ্ড ঘটাচ্ছেন। যদিও ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানা, লালবাজার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন শাখা একযোগে ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই জালিয়াতি চক্রের জাল কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে তার সন্ধানও জারি রয়েছে।