সুশান্ত কাণ্ডে মুম্বই পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছেন কঙ্গনা! গ্রেফতার করা হোক অবিলম্বে, বলছে নেটজনতার একাংশ

সুশান্ত কাণ্ডে মুম্বই পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছেন কঙ্গনা! গ্রেফতার করা হোক অবিলম্বে, বলছে নেটজনতার একাংশ
সুশান্ত কাণ্ডে মুম্বই পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছেন কঙ্গনা! গ্রেফতার করা হোক অবিলম্বে, বলছে নেটজনতার একাংশ

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা কে কে সিং- এর অভিযোগের ভিত্তিতে যে এভাবে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে, তা কেউ ভাবতেও পারেনি। এতদিন পর্যন্ত বলিউডের প্রথম সারির পরিচালক- প্রযোজকদের নিশানা করা হচ্ছিল। মুম্বই পুলিশ তদন্ত শুরু করে বলিউডের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন প্রযোজক এবং পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেও ফেলেছে। কিন্তু কে কে সিং-এর এফ আই আর-এর পরে পুরো চিত্রটাই পাল্টে গিয়ে তদন্ত পুরোপুরি সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে।

এদিকে সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকে কঙ্গনা রানাওয়াত বলে আসছিলেন যে, সুশান্তের মৃত্যুর জন্য বলিউডের স্বজনপোষণ, তারকা সন্তানদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, বলিউডের অভ্যন্তরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহার এসবই দায়ী। এমনকি কঙ্গনার ক্রমাগত আক্রমণের জেরে বলিউডের অভ্যন্তরে ফিল্মি পরিবার থেকে আসা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের চলচ্চিত্র বয়কটের ডাকও আসে নেটদুনিয়ায়।

কিন্তু সুশান্ত কেসে বর্তমান পরিস্থিতিতে কঙ্গনার বিরুদ্ধেই সরব হয়েছে নেটদুনিয়ার একাংশ। কঙ্গনা বিরোধী শ্লোগান উঠছে। এমনকি অনেকে কঙ্গনার গ্রেফতারির কথাও বলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কঙ্গনা একজন সুবিধেবাদী নারী, সুশান্তের মৃত্যু তদন্তে মুম্বই পুলিশকে বিভ্রান্ত করছেন তিনি। এখন এরকমই মন্তব্যে সরগরম নেটদুনিয়া। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ তো আবার কঙ্গনাকে ‘হিপোক্রিট’ বলতেও দ্বিধাবোধ করেননি। ‘একজন আবার মন্তব্য করেছেন যে, ‘আমরা গো মাতাকে সম্মান করি, কিন্তু গোমাংস ভক্ষণকারী কঙ্গনাকে ঘৃণা করি’। সকলের বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই কঙ্গনা শুরু থেকেই বলিউডের তারকাদের আক্রমণ করে চলেছেন।

সম্প্রতি সুশান্তের বাবার আগের বক্তব্য এবং এখনকার পরিস্থিতি এবং এফআইআর-এর বিষয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন কঙ্গনা রানাওয়াত। সম্প্রতি কঙ্গনার একটি টুইটেই তাঁর প্রমাণ মিলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কঙ্গনার টুইটার টিম তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন। সেখানে একজন বলেছেন যে, প্রথমদিকে সুশান্তের বাবা উদ্ধৃত করেছিলেন যে, চলচ্চিত্রও জগতে তাঁর সঙ্গে ঘটা বিভিন্ন বিষয়ে মানসিকভাবে চাপে ছিলেন সুশান্ত। অথচ এখন সে বিষয়ে কোনও কথা হচ্ছে না।

এর উত্তরে কঙ্গনা জানিয়েছেন যে, সুশান্তের পরিবার শুধুমাত্র সুশান্তের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিকেই এখন বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি বলিউডে স্বজনপোষণ, পক্ষপাত, বহিরাগত হিসেবে হওয়া বঞ্চনা, এসব বিষয়কে তাঁরা উপেক্ষা করছেন। কঙ্গনা আরও জানিয়েছেন যে, কারও মন ভাঙা ফৌজদারি অপরাধ নয়, তিনি মনে করছেন যে, সুশান্তের পরিবারের পক্ষ থেকে যে আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন, তাঁর মতামতও ঠিক, স্বজনপোষণ, পক্ষপাতের মতো বিষয়গুলি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। তাই পরিবার চাইছে আর্থিক তছরুপের বিষয়টিকে সামনে রেখে ফৌজদারি মামলা করতে। সেই কারণেই তাঁরা বাকি বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না এই সময়ে।

শুরু থেকেই কঙ্গনা সুশান্তের মৃত্যুকে আত্মহত্যা নয়, খুন করা হয়েছে তাঁকে, এমন মন্তব্য করে আসছেন। তিনি এও দাবি করেছিলেন যে, তাঁর কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আর তিনি যদি সুশান্ত খুন হয়েছেন, তা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে নাকি তিনি পদ্মশ্রী ফিরিয়ে দেবেন।

ফের একবার সেই খুনের তত্ত্বকে টেনে এনে সম্প্রতি তিনি সোশ্যাল মিডিয়া বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন যে, ‘আমাকেও যদি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, জানবেন যে, আমি আত্মহত্যা করিনি।’

সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকে একাধিক পোস্ট করেছেন এই জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগের তালিকা থেকে বাদ যাননি, মহেশ ভাট, আদিত্য চোপড়া, করণ জোহর, সঞ্জয় লীলা বনশালী প্রমুখের মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বও। বলিউডের অভ্যন্তরে এই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তিনি স্বজনপোষণের ধ্বজাধারী বলেও ঘোষণা করেন। করণ জোহরকে তো তিনি সরাসরি ‘মুভি মাফিয়া’ আখ্যা দিয়েছিলেন। কঙ্গনার ক্রমাগর আক্রমণে নেটদুনিয়ায় এঁদের বিরুদ্ধে একটা জনমত গড়ে ওঠে। শুধু নেটদুনিয়া কেন, চলচ্চিত্রও জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও তাঁকে সমর্থন করে এগিয়ে আসেন। মূলত কঙ্গনার আচরণে, বলিউডের অভ্যন্তরও দুটি পৃথক ভাগ হয়ে যায়। অনেকেই স্বজনপোষণ এবং গোষ্ঠী রাজনীতি, বলিউডের ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। মানুষ কঙ্গনার দৃষ্টি দিয়েই বিচার করতে চাইছিলেন। কিন্তু কে কে সিং এর পদক্ষেপের পর, কিছুটা হলেও পরিস্থিতি কঙ্গনার বিপক্ষে গিয়েছে।

এখন অনেকেই মনে করছেন যে, কঙ্গনা সুশান্তের মৃত্যুকে হাতিয়ার করে নিজের কথা বলতে চাইছিলেন। ঠিক যেমনটা কিছুদিন আগেই অভিযোগের সুরে বলেছিলেন অভিনেত্রী তাপসী পান্নু।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.