নির্বাচনী আবহে ফের রাজ্যে বেলাগাম করোনা সংক্রমণ! দৈনিক সংক্রমণ সাড়ে তিন হাজারের উপর

নির্বাচনী আবহে ফের রাজ্যে বেলাগাম করোনা সংক্রমণ! দৈনিক সংক্রমণ সাড়ে তিন হাজারের উপর
নির্বাচনী আবহে ফের রাজ্যে বেলাগাম করোনা সংক্রমণ! দৈনিক সংক্রমণ সাড়ে তিন হাজারের উপর / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একদিকে রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন, আর সেই আবহে ফের একবার বেলাগাম হল রাজ্যে করোনা সংক্রমণ। এমনিতেই দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ নতুন করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল দেশ। এই পরিস্থিতিতে এ রাজ্যেও নির্বাচনী আবহে ক্রমশই বাড়ছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা।

এর আগে স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানা গিয়েছিল রাজ্যে করোনায় সংক্রামিত হয়েছেন ২ হাজার ৭৮৩ জন। সেই হিসেব জানান দিচ্ছিল যে, আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজারের গণ্ডি ছুঁতে আর বেশি বাকি নেই। এই গতি বজায় থাকলে, শীঘ্রই তিন হাজারের গণ্ডিও যে সহজেই অতিক্রম করে যাবে সংক্রামিতের সংখ্যা, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই বলেই মনে করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হল, তাও খুব কম সময়ের মধ্যেই। একলাফে দেড়গুণ বৃদ্ধি পেল রাজ্যে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

উল্লেখ্য, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। আর এই ভোট উৎসবকে কেন্দ্র করে সভা-সমাবেশ, মিটিং, মিছিল লেগেই রয়েছে। এসবে বহু মানুষের জমায়েত হচ্ছে। যথেচ্ছভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে করোনাবিধি। বেশিরভাগের মুখে থাকছে না মাস্ক, মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা। দৈনিক সংক্রামিতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

শুক্রবার রাজ্যে দৈনিক করোনা সংক্রমণের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, শুক্রবার মারণ ভাইরাসে সংক্রামিত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৮ জন। যার জেরে ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৯৪ জন বেড়ে বঙ্গে অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ হাজার ৬০৩ জন। উল্লেখ্য, শুধু কলকাতা শহরেই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় হাজার। শুক্রবার আক্রান্তদের মধ্যে ৯৮৭ জন কলকাতার। এরপরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগণার। সেখানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮৪।

অন্যদিকে, শুক্রবার করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১,১৪৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এর ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৩৭৮। রাজ্যে করোনার সুস্থতার হার কমে হয়েছে ৯৫.২২ শতাংশ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর পুরনো ব্যবস্থাই ফিরিয়ে আনছেন করোনা সংক্রমণ রুখতে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যের যে যে জেলাতে তিন পর্বে ভোট মিটে গিয়েছে, সেখানে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। নবান্ন থেকে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে, গত বছর করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে যে ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে, সেই দায়িত্ব ফের পালন করতে হবে। ফের পুরোদমে চালু হয়েছে টেলিমেডিসিন, কল সেন্টার ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাও। করোনা পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় গাইডলাইন মেনে প্রায় ৭০ শতাংশ পরীক্ষাই আরটিপিসিআরে করা হচ্ছে। স্যানিটাইজ করা, মাস্ক ব্যবহার-সহ যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সবই করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর।

বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার তিনি ভোট মিটে যাওয়া জেলার ডিএম, এসপি, সিএমওএইচ-দের সঙ্গে বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারেন।

অন্যদিকে, এর সঙ্গে ফের একবার সরকারি ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কর্মচারীর হাজিরার কথা বলা হয়েছে। যদিও এই ব্যবস্থা জারি থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা শিথিল করা হয়েছে। ৫০ শতাংশের বেশি কর্মীই উপস্থিত থাকছিলেন। তবে এবার, করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই পুরনো নির্দেশিকা বলবৎ করতে চলেছে রাজ্য। এর জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দফতর নির্দেশিকা জারি করেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হাওড়ার রবার পার্ক, উত্তর ২৪ পরগনার সিএনসিআই, দক্ষিণ কলকাতার গীতাঞ্জলি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সেফ হোম চালু হবে। দ্রুত যোগাযোগে স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং কলকাতায় কোভিড হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। তবে, করোনার নতুন করে বাড়বাড়ন্ত হলেও রাজ্যে টিকাকরণ চলছে জোরকদমে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.