মালদহ-বাংলাদেশ সীমান্তে আটক চীনা নাগরিককে জিজ্ঞেসাবাদ এনআইএ-র

মালদহ-বাংলাদেশ সীমান্তে আটক চীনা নাগরিককে জিজ্ঞেসাবাদ এনআইএ-র
মালদহ-বাংলাদেশ সীমান্তে আটক চীনা নাগরিককে জিজ্ঞেসাবাদ এনআইএ-র

মালদহে বাংলাদেশ সীমান্তে আটক ‘সন্দেহভাজন চীনা’ নাগরিককে আজ জিজ্ঞেসাবাদ করবে এনআইএ। ইতিমধ্যেই ওই ধৃত ব্যক্তি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য বিএসএফের থেকে সংগ্রহ করেছেন এনআইএ আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই মালদার বিএসএফ ক্যাম্পে পৌঁছেছে এনআইএ।

বিএসএফ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ছটা নাগাদ মালদহের কালিয়াচক থানার অন্তর্গত মিলিক এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় এক চীনা ব্যক্তিকে। এই ঘটনা দেখেই সন্দেহ হয় বিএসএফ জওয়ানদের। আর তার পরেই তাকে আটক করে বিএসএফের ১৫৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ান। মিলিকের এই এলাকাটি জাল নোট, চোরা পাচার এবং বিভিন্ন ধরনের কালোবাজারির জন্য কুখ্যাত। তার মধ্যে এই চিনা ব্যক্তি হানের উপস্থিতি রীতিমত সন্দেহজনক করে তুলেছে গোটা বিষয়টিকে।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, হান জুনেই চাইনিস সিক্রেট এজেন্সির এজেন্ট। তাঁর এক সঙ্গী সান জিইয়াং-কে কিছুদিনের আগেই লখনউ এটিএস গ্রেফতার করেছে। তার কাছ থেকে ১০-১৫টি সিম কার্ড পায় এটিএস।

এদিকে, এই চিনা অনুপ্রবেশকারীর কাছ থেকে ১ টি অ্যাপল ল্যাপটপ, ২টি আইফোন মোবাইল, ১ টি বাংলাদেশি সিম, ১টি ভারতীয় সিম, ২টি চাইনিজ সিম, ২টি পেন ড্রাইভ, ৩টি ব্যাটারি, ২ টি ছোট টর্চ, ৫টি টাকা লেনদেনের মেশিন, ২টি এটিএম কার্ড, ইউএস ডলার, বাংলাদেশি টাকা এবং ভারতীয় মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছে।

যদিও বিএসএফ সূত্রের খবর, প্রাথমিক জেরার পর জানা গিয়েছে ওই ব্যক্তি আসলে বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছিলেন। মালদহের এই অঞ্চলের বেশ কিছু অংশ বাংলাদেশ বর্ডারের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু এখানে কোন বেড়া দেওয়া নেই।

ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, “প্রকৃতি দেখতে দেখতেই এই অঞ্চলে ঢুকে পড়েন তিনি।” বিষয়টির সত্যতা প্রমাণের জন্য বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেখিয়েছেন তিনি। বিএসএফ জওয়ানদের মতে তার কথাই ধরা পড়েছে বেশ কিছু অসংলগ্নতা। যার জেরে এত সহজে মুক্তি পাবেন না ঐ চিনা ব্যক্তি।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্ডারের কাছাকাছি থাকা এই অঞ্চলে অনেক অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হয়। এমনকি অনেকে এসে গা-ঢাকা দেন বলেও খবর। আর এই ব্যক্তির থেকে অনেক টাকাও উদ্ধার হয়েছে। যার জেরে আরো বেড়েছে সন্দেহ। তিনি আদতে কোনো নাশকতার ছকের সঙ্গে যুক্ত কিনা তাও এখন খতিয়ে দেখছে বিএসএফ।