চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলা! নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিজেপি নেতার

চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলা! নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিজেপি নেতার
চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলা! নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিজেপি নেতার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এবার মারাত্মক এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে। শুধু অভিযোগ ওঠাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে দিনহাটা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন বিজেপিরই এক নেতা।

দিনহাটার গোসাইনিমারি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ও বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার নেতা ফিরদৌস আলম অভিযোগ করেছেন যে, অসম থেকে দুষ্কৃতীদের এনে বোমা তৈরি করাতেন নিশীথ। চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই বোমাগুলি রাখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাঁর উপর। তিনি এও জানিয়েছেন যে, এর আগে একবার বাইকে করে ওইসব বোমা পুলিশের চোখ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণে আহতও হয়েছিলেন। সেই সময় তাঁকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জাও লড়তে হয়েছিল।

শুধু বোমা তৈরি করাই নয়, এর পাশাপাশি চাকরি দেওয়ার নাম করে, টাকা তোলার মতো গুরুতর অভিযোগও করেছেন ফিরদৌস আলম। ফিরদৌস নিজেই প্রতারিত হয়েছেন। তাঁর কাছ থেকেই নিশীথ চাকরি দেওয়ার নামে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। গবাদি পশু, টোটো ইত্যাদি বিক্রি করে সেই অর্থ জোগাড় করেছিলেন তিনি। যদিও কোনও চাকরি হয়নি ফিরদৌসের। আবার টাকাও ফেরত দেননি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার এমনই মারাত্মক অভিযোগ করেছেন ফিরদৌস। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তিনি মারাত্মক আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। সেই জন্যই তিনি গোটা বিষয়টি জেলা তৃণমূল চেয়ারম্য়ান উদয়ন গুহকে জানাতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও এইসব মারাত্মক অভিযোগের প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে, দিনহাটা থানার তরফে ওই অভিযোগের কথা স্বীকার করা হয়েছে। এনিয়ে তদন্ত হবে বলেও থানার তরফে জানানো হয়েছে।

এদিকে, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু জানিয়েছেন যে, ‘উনি কতটা সংখ্যালঘু নেতা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। উনি তাহলে এতদিন পার্টিতে ছিলেন কেন? এগুলো সবই তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করার চেষ্টা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নামে অভিযোগ হলে বেশি হইচই হবে। তাই এমন করা হচ্ছে। আমরা একে গুরুত্ব দিচ্ছি না। এই অভিযোগের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা আছে বলে আমার মনে হয় না। পার্টিতে এমন কথা কেউ বলেনি। পুরোটাই অসত্য বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তৃণমূলের হাতের তামাক খেয়েই এসব বলা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

অন্যদিকে, গোটা ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের নেতা উদয়ন গুহ জানিয়েছেন যে, ‘ওই যুবককে আমি আগে চিনতাম না। যুবকটি এসে সমস্ত ঘটনা আমাকে জানিয়েছে। নিশীথের কথামতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বোমা বহন করার সময় সেই বোমা বিস্ফোরণে যুবক আহত হয়। কেবল তাই নয়, চাকরির নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছিল ওই যুবকের কাছ থেকে। বর্তমানের ছেলেটি নিঃস্ব। এগুলি মানবাধিকার কমিশন বা সিবিআই- এর কাছে তুলে ধরার কেউ নেই।’ এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন যে, ‘যিনি এই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তিনি আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী। যা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। এমন একটা ফিরদৌস নয়, বহু ফিরদৌস, সমাজ-বিরোধী তৈরি করেছেন তিনি। আমার মনে হয় এসবের তদন্ত হওয়া উচিত।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এক সময় তৃণমূলের লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার লোকসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়ী হন। আবার একুশের বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে জয়ী হন। কিন্তু সাংসদ হওয়ার কারণে তাঁকে বিধায়ক পদ ছাড়তে হয়। এরপর তাঁকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আবার এরই মাঝে তাঁর বিরুদ্ধেই চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলা এবং বোমা তৈরির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল।