ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! অফিসে কর্মচারীদের হাজিরা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা নবান্নের, ফিরছে আগের বিধি-ব্যবস্থা

ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! অফিসে কর্মচারীদের হাজিরা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা নবান্নের, ফিরছে আগের বিধি-ব্যবস্থা
ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! অফিসে কর্মচারীদের হাজিরা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা নবান্নের, ফিরছে আগের বিধি-ব্যবস্থা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একদিকে রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন, আর একদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এমনিতেই দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ নতুন করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল দেশ। এই পরিস্থিতিতে এ রাজ্যেও নির্বাচনী আবহে ক্রমশই বাড়ছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা।

গত ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে করোনায় সংক্রামিত হয়েছেন ২ হাজার ৭৮৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজারের গণ্ডি ছুঁতে আর বেশি বাকি নেই। এই গতি বজায় থাকলে আগামীতে তিন হাজারের গণ্ডিও যে সহজেই অতিক্রম করে যাবে সংক্রামিতের সংখ্যা, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে এখনও রাজ্যে ৫ দফা ভোট বাকি। তার মধ্যে করোনার বাড়বাড়ন্ত। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে নয়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। গত বছর করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে যে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল, এবারও সেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে রাজ্যের পক্ষ থেকে। এদিকে করোনার ভ্যাকসিন না পাওয়ার জন্য কেন্দ্রের সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন যে, ‘মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পেলাম না। টাকাটা আমরাই দিতাম। কী কারণ, আমরা খুঁজছি। একটাই কোম্পানি কেন বরাত পাবে?’

দেশে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এই রাজ্যের পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ভাল। দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা অনেক কম। তবে, যেহেতু রাজ্যে নির্বাচন চলছে এবং এই নির্বাচনকে ঘিরে সভা-সমাবেশ, মিটিং, মিছিল লেগেই রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সেখানে প্রচুর মানুষের জমায়েত হচ্ছে। ফলে বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কাও। যা নিয়ে বারবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন। এইসব জমায়েতে যথেচ্ছভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ। কেউ মাস্ক ব্যবহার করছেন না। মানা হচ্ছে না শারীরিক দুরত্ববিধিও।

তাই সবটা বিচার-বিবেচনা করে রাজ্য পুরনো ব্যবস্থাই ফিরিয়ে আনছে করোনা সংক্রমণ রুখতে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যের যে যে জেলাতে তিন পর্বে ভোট মিটে গিয়েছে, সেখানে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। নবান্ন থেকে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে, গত বছর করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে যে ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে, সেই দায়িত্ব ফের পালন করতে হবে। ফের পুরোদমে চালু হয়েছে টেলিমেডিসিন, কল সেন্টার ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাও। করোনা পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় গাইডলাইন মেনে প্রায় ৭০ শতাংশ পরীক্ষাই আরটিপিসিআরে করা হচ্ছে। স্যানিটাইজ করা, মাস্ক ব্যবহার-সহ যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সবই করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার তিনি ভোট মিটে যাওয়া জেলার ডিএম, এসপি, সিএমওএইচ-দের সঙ্গে বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারেন।

অন্যদিকে, এর সঙ্গে ফের একবার সরকারি ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কর্মচারীর হাজিরার কথা বলা হয়েছে। যদিও এই ব্যবস্থা জারি থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা শিথিল করা হয়েছে। ৫০ শতাংশের বেশি কর্মীই উপস্থিত থাকছিলেন। তবে এবার, করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই পুরনো নির্দেশিকা বলবৎ করতে চলেছে রাজ্য। এর জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দফতর নির্দেশিকা জারি করেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হাওড়ার রবার পার্ক, উত্তর ২৪ পরগনার সিএনসিআই, দক্ষিণ কলকাতার গীতাঞ্জলি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সেফ হোম চালু হবে। দ্রুত যোগাযোগে স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং কলকাতায় কোভিড হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে।

করোনার নতুন করে বাড়বাড়ন্ত হলেও রাজ্যে টিকাকরণ চলছে জোরকদমে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখেরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন লাখেরও বেশি টিকাকরণ হচ্ছে। সেই সংখ্যা পাঁচ লাখে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। আরও বেশি মানুষ যাতে টিকা নেন, তার জন্য প্রচারেও জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সেক্ষেত্রে যত মানুষ প্রতিষেধক নেবেন, তত করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও কম হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে করোনা হলেও তার প্রভাব পড়বে অনেকটাই কম। পাশাপাশি কম হবে মৃত্যুর সংখ্যাও।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই করোনা সংক্রমণ দেখা দেয় দেশে। ক্রমশ পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে শুরু করে এরপর। ২৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গোটা দেশে লকডাউন ঘোষণা করেন। রাজ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে রাজ্যে সর্বাধিক হয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

যদিও তার আগে থেকেই স্বাস্থ্য দপ্তর করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করায়, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়নি। এবারও করোনার গ্রাফ যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, তা দেখে আগেভাগেই সামাল দেওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার পথেই হাঁটছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.