জলপাইগুড়িতে অজানা জ্বরে আরও এক শিশুর মৃত্যু! বিপদ এড়াতে কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

জলপাইগুড়িতে অজানা জ্বরে আরও এক শিশুর মৃত্যু! বিপদ এড়াতে কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
জলপাইগুড়িতে অজানা জ্বরে আরও এক শিশুর মৃত্যু! বিপদ এড়াতে কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা? / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ক্রমশই অজানা জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলায় অজানা জ্বরে কাবেরি রায় নামে বছর ৬-এর এক শিশুর মৃত্যু হয় মঙ্গলবার ভোরে। সেই ঘটনার কিছু সময়ের ব্যবধানেই জলপাইগুড়িতে আরও এক শিশুর মৃত্যু ঘটল। এর জেরে শিশু মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২। জানা গিয়েছে মৃত শিশুর নাম মৃত্তিকা রায়। বয়স মাত্র ৭ মাস। বাড়ি আমগুড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের বেতগাড়া নিউ কলোনীতে।

এদিকে এখনও জলপাইগুড়ি হাসপাতালে ভর্তি ২০০-র কাছাকাছি শিশু। একই রকম উপসর্গ নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে অন্তত ৭০ জন শিশু। সব মিলয়ে আতঙ্ক ক্রমশ বেড়েই চলেছে মানুষের মধ্যে।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেলে মারা যাওয়া শিশুর বয়স মাত্র ৭ মাস। কয়েকদিন ধরে জ্বর না কমায়, এদিন ওই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দেন অভিভাবকরা। তবে, হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়ে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এরা আগে সোমবার রাতে জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৬ বছরের কাবেরীকে। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের বাসিন্দা কাবেরী। প্রবল জ্বর ছিল তার। তাকে ভর্তি করার পরই চিকিৎসকরা শিশুটির পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। এরপর মঙ্গলবার ভোরেই মৃত্যু হয় ওই শিশুর।

অন্যদিকে, আমগুড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান দিলীপ রায় জানান, ‘নিউ কলোনীর বাসিন্দা মৃত্তিকা রায়ের বেশ কয়েকদিন থেকেই সর্দি এবং জ্বর ছিল। গতকাল তার জ্বর বেড়ে যায়। পরিবারের লোকজন শিশুটিকে ময়নাগুড়ি গ্রামীণহাসপাতালের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ায় সময় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

জ্বরের কারণ জানতে শিশুদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কলকাতার ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। পাশাপাশি পুণের ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতেও পাঠানো হয়েছে। তবে, পরীক্ষার ফল এখনও হাতে আসেনি। তা পেলে, তবেই জ্বরের কারণ কিংবা কোথা থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, সে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, ময়নাগুড়ির কোনও শিশু মৃত্যুর খবর তাঁর কাছে নেই। এই বিষয়ে খোঁজ খবর করছেন তিনি। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য তাঁর হাতে আসেনি। কিন্তু, কেন শিশুদের মধ্যে থাবা বসাচ্ছে এই অজানা জ্বর? কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যাবে খুদেদের? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চিন্তিত অভিভাবকদের মনে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগে মূলত শীতকালে শিশুরা ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হত। কিন্তু, বর্তমানে বর্ষাকালেও তারা জ্বরে ভুগছে। এদিকে, এই জ্বরের সঙ্গে অনেকের শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। ফলে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও অনেক সময় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনওভাবেই যাতে শিশুরা বৃষ্টিতে না ভেজে, সেদিকে পরিবারকে বিশেষ নজর রাখার কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এছাড়াও যথাসম্ভব বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা, বাড়ির কারও সর্দি কাশি থাকলে, তাঁর থেকে শিশু যাতে দূরত্ব বজায় রাখে সেদিকে নজর রাখা। বারবার হাত ধোয়া এসব দিকে অভিভাবকদের নজর দিতে হবে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, শিশুদের এই অজানা জ্বর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও। শিশুরা করোনায় আক্রান্ত নয়। তবে, তারা ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া, জাপানি এনসেফালাইটিসের আক্রান্ত হতে পারে, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে শিশু বিভাগটি ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।