তৃণমূলের প্রতিনিধি দল পৌঁছাল লখিমপুরে! নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন সুস্মিতারা!

তৃণমূলের প্রতিনিধি দল পৌঁছাল লখিমপুরে! নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন সুস্মিতারা!
তৃণমূলের প্রতিনিধি দল পৌঁছাল লখিমপুরে! নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন সুস্মিতারা! / ছবি সৌজন্যে- Twitter @AITCOfficial

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ অবশেষে লখিমপুরে নিহত কৃষকদের পরিবারের কাছে পৌঁছালেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। দেখা করলেন শোকগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। অভিযোগ, রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয়। এরপরেই এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে লখিমপুর খেরি।

এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা লখিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু প্রায় সকলকেই আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রায় ৩০ ঘন্টার বেশি সময় সীতাপুরে আটক করে রাখার পর ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কংগ্রেস নেতা বাঘেলকে বিমানবন্দরেই আটকে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সপা নেতা অখিলেশ যাদবকেও।

এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র নিহত কৃষকদের পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই সেখানে গিয়েছেন ওই প্রতিনিধি দল। এই দলে রয়েছেন, দোলা সেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুস্মিতা দেব, প্রতিমা মণ্ডল ও আবিররঞ্জন বিশ্বাস। জানা গিয়েছে, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও অবশেষে, ঘটনাস্থলে পৌঁছন ৫ তৃণমূল সাংসদ। নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সান্ত্বনা দেন তাঁরা।

ছবি সৌজন্যে- Twitter @AITCOfficial

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রবিবার ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি হয়ে ওঠে সেখানে। কৃষকের হত্যায় নাম জড়িয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আকাশ মিশ্রর। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এছাড়া তাঁর পাল্টা দাবি, ওইদিন চার কৃষক ছাড়াও আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন বিজেপি কর্মী ও গাড়ির চালক।

তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কেবল চার কৃষকেরই নাম রয়েছে। সেই রিপোর্টের দাবি, মৃত চার কৃষকের কারও শরীরেই গুলির আঘাতের চিহ্নের সন্ধান মেলেনি। ধাক্কাধাক্কির ফলে হওয়া অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, সব মিলিয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ওই সংঘর্ষে।

এদিন সেখানে পৌঁছে, নিহত কৃষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সাংসদ দোলা সেন বলেন, ‘আমরা রবিবার থেকে লখিমপুর খিরি পৌঁছানোর চেষ্টা করছি, এবং আমরা দু’দিন পরে পৌঁছতে পারলাম’। আবার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশে প্রবেশের জন্য নিজেদের পর্যটক হিসেবে চিহ্নিত করেছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

অন্যদিকে, রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সুস্মিতা দেব বলেছেন, ‘লখিমপুর খিরিতে গাড়ির তলায় পিষ্ট হয়ে মারা যাওয়া তরুণ কৃষকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা হৃদয়বিদারক। কালো আইন বাতিল এবং এই নৃশংস অন্যায় বন্ধ করতে তৃণমূলের চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি সিঙ্গুরে লড়াই করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন ভারতের কৃষকদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।’