নতুন ইতিহাস রচনা সিন্ধুর, প্রথম ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াবিদ হিসেবে অলিম্পিকে জোড়া পদক জয়!

নতুন ইতিহাস রচনা সিন্ধুর, প্রথম ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াবিদ হিসেবে অলিম্পিকে জোড়া পদক জয়!
নতুন ইতিহাস রচনা সিন্ধুর, প্রথম ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াবিদ হিসেবে অলিম্পিকে জোড়া পদক জয়!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সব মিলিয়ে পাঁচটা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পদক তাঁর ঝুলিতে। একমাত্র মেরি কম ছাড়া আশেপাশে কেউ নেই। তিনি আর কেউ নন পিভি সিন্ধু। এবার নতুন ইতিহাস রচনা করলেন তিনি। ভারত থেকে ব্যাডমিন্টনে তিনিই একমাত্র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আগের দিন বিশ্বের এক নম্বর ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়ের কাছে সেমিফাইনালে হেরে সোনার দৌড় থেকে ছিটকে যান। স্বভাবতই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। হৃদয় ভেঙেছিল গোটা দেশেরও।

কিন্তু সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের ঘুরে দাঁড়ালেন তিনি। অলিম্পিকের মঞ্চে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু। রবিবার অলিম্পিকে বিশ্বের ন’নম্বর চিনের হে বিং জিয়াওকে স্ট্রেট গেমে হারিয়ে দেশের জন্য ব্রোঞ্জ পদক ছিনিয়ে আনলেন তিনি। খেলার ফল সিন্ধুর পক্ষে ২১-১৩, ২১-১৫।

সেমিফাইনালে হেরে নিজের কষ্ট চেপে রাখতে পারেননি। বাবা-মাকে ফোনে করে চোখের জল ফেলেছিলেন। কিন্তু মেয়েকে হার মানতে দেননি সিন্ধুর বাবা-মা। তাঁরাও স্পোর্টসম্যান। তাই দুজনেই মেয়েকে সব ভুলে, পরের খেলার জন্য মনোনিবেশ করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। আর সিন্ধু সেই পরামর্শ মেনে, জিতে আনলেন দেশের জন্য ব্রোঞ্জ পদক। শুধু জেতাই নয়, ভারতের প্রথম মহিলা ক্রীড়াবিদ হিসেবে, টানা দুটি অলিম্পিকে পদক জয়ের নজির গড়লেন তিনি। উল্লেখ্য, মোট ৬ জন ভারতীয় মহিলা অলিম্পিক্সে পদক জিতেছেন। কিন্তু জোড়া পদক সিন্ধু ছাড়া আর কারও নেই। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে অলিম্পিক্স পদক জেতেন কর্নম মালেশ্বরী। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিক্সে ভারোত্তোলনে তিনি ব্রোঞ্জ জেতেন।

২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে ভারত দুটি পদক অর্জন করেছিল। সেই দুটি পদকই দেশকে এনে দিয়েছিলেন, ভারতের দুই মহিলা ক্রীড়াবিদ। প্রথম পদক অর্জন করেন সাক্ষী মালিক কুস্তিতে। এর দু’দিন পরে, সিন্ধু রূপো জেতেন। তার আগে লন্ডন অলিম্পিকে বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন মেরি কম। কিন্তু ব্যক্তিগত ইভেন্টে অলিম্পিকের প্লাটফর্মে ভারত থেকে সুশীল কুমারের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি সিন্ধু, যাঁর দুটি অলিম্পিক পদক আছে।

এবারও সিন্ধুকে শেষ চারের হার্ডলটাও টপকাতে দেননি চিনা তাইপেইয়ের তাই জু ইং। আর সেই সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় সিন্ধুর সোনা জয়ের স্বপ্নও। তবে, পদক জয় তিনি সুনিশ্চিত করেছেন। চিনের ঝাং নিং- এর পর তিনিই একমাত্র মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকা যাঁর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি পদক আছে। সিন্ধুর এই সাফল্যের নেপথ্যে বড় অবদান রয়েছে তাঁর বর্তমান কোরিয়ান কোচ পার্ক তাই সাং- এর।

এই মুহূর্তে শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন দেশের ব্যাডমিন্টন তারকা সিন্ধু। পদক জয়ের পরেই দেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এখানেই শেষ নয়, সিন্ধুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শচিনও। আর ওদিকে মা অপেক্ষা রয়েছেন মেয়ের জন্য। দেশে ফিরলেই মেয়েকে রেঁধে খাওয়াবেন পছন্দের খাবার। আর মেয়ে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন টোকিওতেই শেষ নয়। ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকেও খেলবেন তিনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সিন্ধুর এদিনের জয়ের ফলে টোকিও থেকে ইতিমধ্যে দুটি পদক জিতে ফেলল ভারত। এর আগে ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু দেশকে রুপো এনে দিয়েছেন। এছাড়া বক্সার লভলিনা নিজের ইভেন্টের সেমিফাইনালে উঠে দেশের হয়ে একটি পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন। তবে, সেটা সোনা না রূপো তার জন্য আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে দেশের মানুষকে।