অলিম্পিকে পদক জয়ের সাফল্যের পরেও ঘরের মেয়ে মীরাবাঈ চানু! খাবার খাচ্ছেন মাটিতে বসেই

অলিম্পিকে পদক জয়ের সাফল্যের পরেও ঘরের মেয়ে মীরাবাঈ চানু! খাবার খাচ্ছেন মাটিতে বসেই
অলিম্পিকে পদক জয়ের সাফল্যের পরেও ঘরের মেয়ে মীরাবাঈ চানু! খাবার খাচ্ছেন মাটিতে বসেই

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সদ্য অলিম্পিকে পদক অর্জন করেছেন। অলিম্পিকে পদক জয় কম কথা নয়! দেশকে গর্বিত করে রূপো পদক অর্জন করেছেন। এই সাফল্যের পরে অনেকেরই ব্যাপক পরিবর্তন হয়। জয়ের পরে অনেকেরই মাথা ঘুরে যায়, তেমন উদাহরণও আছে এদেশেই। কিন্তু মণিপুরের মীরাবাঈ চানু হলেন ব্যতিক্রম। তিনি টোকিও অলিম্পিকে ভারোত্তোলনে রুপো জিতলেন।

এরপর ঘরে ফেরার পালা। আর বাড়ি ফিরেই, একেবারে ঘরের মেয়ের মতো হয়ে গেলেন তিনি। যেন তেমন কিছুই হয়নি। তাঁর জীবনযাত্রা দেখে বোঝার উপায়ই নেই যে, সদ্য এই মীরাবাঈ চানুই সদ্য দেশের হয়ে টোকিও অলিম্পিক্সে ভারোত্তোলনে রুপো জিতেছেন। বিশ্বের দরবারে দেশকে গর্বিত করেছেন। সুখ আর সাফল্যের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দেননি। ভুলে যাননি নিজের শিকড়। উল্টে নিজের শিকড়কেই আঁকড়ে ধরেছেন। নংপক কাকচিং গ্রামেই তাঁর সেই শিকড় বাঁধা। আর এখানে এসে তিনি একেবারে সাধারণ এক মেয়ে।

এমনিতেই পাহাড়ি মানুষদের জীবনযাত্রার মধ্যেই সংগ্রামের বীজ থাকে। মীরাবাঈ চানুও শৈশব থেকেই সেই সংগ্রামের মধ্যেই বড় হয়েছেন। ভৌগলিক অবস্থানের জেরে রোজকার জীবন এখানে হয়ে ওঠে বেশ পরিশ্রমের। এর সঙ্গে দোসর হিসেবে রয়েছে সংসারের নিত্য অভাব। এসবের সঙ্গে সহবাস করেই বড় হয়ে উঠেছেন মীরাবাঈ চানু। সব প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে হাসিমুখে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে গেছেন। তাই তো আজ তিনি এতো সফল। জীবনের না-পাওয়াগুলো তাঁর অদম্য জেদকে পরাস্ত করতে পারেনি। তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি। তাঁর জীবনে এই না-পাওয়াগুলো প্রভাব ফেলা তো দূর, তাঁকে আরও বেশি তাঁর লক্ষ্যে স্থির থেকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে।

মীরাবাঈ চানুর দাদা জানিয়েছেন, তাঁর ছোট বোন ৬-৭ বছর বয়স থেকেই বাড়ির জন্য কাঠ কুড়োতে যেত। সেখান থেকেই মীরাবাঈ চানুর ওজন তোলার ট্রেনিং শুরু। সেই ওজন বইবার নেশাই তাঁকে আজ অলিম্পিক পর্যন্ত নিয়ে গেল, শুধু নিয়ে যাওয়াই নয়, পদক ছিনিয়ে আনলেন তিনি দেশের জন্য।

মণিপুরের নংপক কাকচিং গ্রামে ফিরেই নিজের পুরনো জীবনে ফিরেছেন মীরাবাঈ। জানা গিয়েছে, সেখানেই আপাতত কিছুদিন তিনি বিশ্রামে থাকবেন। তার পর আবার শুরু হবে ট্রেনিং। তবে, বিশ্রামে থাকলেও, ব্যস্ততা কিন্তু কম নেই। রোজই বাড়িতে কেউ না কেউ আসছেন। না হলে, যোগ দিতে হচ্ছে নানা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। হাসিমুখে সবটাই সামলাচ্ছেন পাহাড়ি মেয়ে মীরাবাঈ।

তবে, এই অল্প সময়ের বিরতিতে পরিবারের সঙ্গে চুটিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, মজা করছেন। অলিম্পিকে রুপোজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাঈ চানু ঘরে ফিরে, ঘরের মেয়ে হয়ে, ভাত, ডাল, শাক, সবজি নিয়ে মাটিতেই পাত পেতে বসে পড়েছেন। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে, অনেকেই অবাক হয়েছেন। তবে, মীরাবাঈ চানু এতকিছু ভাবছেন না। ইতিমধ্যে অ্যাডিশনাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ পদে যোগ দেওয়ার ডাক এসেছে। ফলে কিছুদিন পর থেকেই হয়তো কর্মব্যস্ততাও শুরু হবে। এসবের মধ্যেই প্রাণ খুলে বাঁচতে চাইছেন মীরাবাঈ, একেবারের মণিপুরের পাহাড়ি গ্রামের সাদামাটা ঘরের মেয়ে হয়েই।