বিশেষ উপহারে নিজের ছবি দেখে হতবাক প্রধানমন্ত্রী! বাঙালি তাঁতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ মোদি

বিশেষ উপহারে নিজের ছবি দেখে হতবাক প্রধানমন্ত্রী! বাঙালি তাঁতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ মোদি
বিশেষ উপহারে নিজের ছবি দেখে হতবাক প্রধানমন্ত্রী! বাঙালি তাঁতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ মোদি

চলতি বছরে পদ্ম পুরস্কার উঠেছে সমাজের তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসা সাধারণ কিছু মানুষের হাতে। যারা সমাজে বিশেষ কিছু অবদান রাখার মাধ্যমে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করার পাশাপাশি দেশবাসীকেও গর্বিত করেছেন। এ বছর পদ্মশ্রীতে ভূষিত হয়েছেন ১০২ জন, ১০ জন সম্মানিত হয়েছেন পদ্মভূষণ পুরস্কারে এবং ৭ জন পেয়েছেন পদ্মবিভূষণ পুরস্কার। সেরকমই একজন হলেন, নদীয়ার তাঁতশিল্পী বীরেন কুমার বসাক। ২০২১ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। আর সেই সম্মান নিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি দিলেন এক বিশেষ উপহার। যা দেখে চমকে গেলেন মোদি স্বয়ং।

কী সেই উপহার? বাংলার তাঁতের জমি জুড়ে শিল্পী ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর দক্ষ হাতের নিপুণ শিল্প। তাঁতের সেই কাপড় জুড়ে ১৩৩ কোটি ভারতবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শ্রোতার আসনে রয়েছেন হিন্দু থেকে মুসলিম, শিখ থেকে জৈন; কিশোর থেকে বৃদ্ধ, মহিলা থেকে শিশু। সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের দেশের প্রকৃত রূপ ফুটে উঠেছে বাংলার সেই তাঁত শিল্পীর অনন্য সৃষ্টিতে। এই পুরস্কার পেয়ে হতবাক স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। নিজেই ট্যুইট করে এই অনন্য উপহারের কথা জানালেন দেশবাসীকে। শিল্পী বীরেন বসাকের শিল্পকীর্তিতে মুগ্ধ নরেন্দ্র মোদি। শিল্পীর প্রতি যেন প্রশংসার শেষ নেই তাঁর।

উল্লেখ্য, বাংলার নদীয়া জেলার তাঁত শিল্পী বীরেন বসাকের পরিচিতি তাঁত সন্রাট নামে। নদীয়া তথা বাংলার তাঁত শিল্পকে অন্যতম উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া পিছনে রয়েছে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম। তাঁর বিশেষ গুণ হল, তাঁত জামদানির জমিতে পোর্ট্রেট মোটিভ ফুটিয়ে তোলা। শুধু জামদানিই নয়, মসলিন, খাদি, তসর, সিল্ক, মটকা সহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ির বুনন ও নকশা নিয়ে সারাক্ষণই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান শিল্পী বীরেন। সেই সঙ্গে তাঁত শিল্পের ঘরানায় বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও করেছেন তিনি। এই অসামান্য অবদানের জন্য ইতিমধ্যেই গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড-এও স্থান পেয়েছে তাঁর নাম। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। নদীয়ার তাঁত শিল্পকে দেশ তথা বিশ্বের দরবারের তুলে ধরার জন্য স্থানীয় তাঁতিরা বিশেষ কৃতিত্বও দিচ্ছেন বীরেন বসাককে।