‘শচীনকে আহত করলে আমাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারত’, স্মৃতিচারণ শোয়েব আখতারের!

'শচীনকে আহত করলে আমাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারত’, স্মৃতিচারণ শোয়েব আখতারের!
'শচীনকে আহত করলে আমাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারত’, স্মৃতিচারণ শোয়েব আখতারের!

ক্রিকেটের মাঠে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। এই দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজ প্রায় প্রবাদপ্রতিম! খেলার মাঠে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী যখনই পরস্পরের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়, তখনই দর্শকের কাছে তা হয়ে ওঠে চরম উপভোগ্য। তবে বর্তমানে আইসিসির কোনও প্রতিযোগিতা ছাড়া দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াই দেখার সৌভাগ্য হয় না দর্শকের। কিন্তু আগে এই দুই দেশ প্রায়ই উভয় দেশে ক্রিকেটীয় সফরে পাড়ি দিল। সম্প্রতি সেরকমই একটি সফরের ঘটনা নিয়ে স্মৃতিচারণে মাতলেন পাকিস্তানি স্পিডস্টার শোয়েব আখতার। তাঁর কথায় উঠে এল শচীনের সঙ্গে খুনসুটির কথাও।

সম্প্রতি শোয়েব আখতারের একটি সাক্ষাৎকারে ভারত-পাকিস্তানের ২০০৭ সফরের কথা উঠে আসে। সে সময়ের একটি ঘটনার স্মরণ করে শোয়েবের উক্তি, “আমি শচীনকে কোনওদিন আঘাত করলে ভারতীয়রা আমাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলত”! কিন্তু হঠাৎ এ কথা বলার কারণ কী? নিজেই এরপর তা খোলসা করলেন শোয়েব৷ তাঁর কথায়, ২০০৭ সফরে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা একটি পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে একত্রিত হয়েছিলেন। সেখানে শোয়েব আখতার একপ্রকার মজা করেই শচীন তেন্ডুলকরকে কোলে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর হাত থেকে পিছলে পরে যান মাস্টার ব্লাস্টার। তবে ভাগ্যক্রমে তাঁর কোনও আঘাত লাগেনি।

এই ঘটনার উল্লেখ করেই এরপর রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেসের বক্তব্য, “আমি মজা করে শচীনকে কোলে তোলার চেষ্টা করছিলাম। আমি তাঁকে তুলতে সক্ষমও হই কিন্তু তারপরই আমার হাত থেকে পিছলে যান তেন্ডুলকর। পড়ে যাওয়ার পরই আমার মনে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়, শচীনকে যদি আমি আহত করি তাহলে আর কোনওদিন ভারতে আসার ভিসা পাব না। ভারতীয়রা আমাকে আর কখনোই দেশে ফিরতে দেবে না। এমনকি আমাকে জীবন্ত পুড়িয়েও মারতে পারে! তবে সৌভাগ্য বশত তেন্ডুলকর তেমন গুরুতর আহত হননি। যা আমাকে স্বস্তি দিয়েছিল।”

পাশাপাশি শোয়েব অবশ্য এও স্বীকার করে নেন, পরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেবার দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন শচীন। সেসময় পাকিস্তানি পেসারের একবার মনে হয়েছিল, সেদিন যদি মাস্টার ব্লাস্টার পড়ে গিয়ে আহত হতেন তা পাকিস্তান দলের জন্য মন্দ হতো না। তবে তা যে নিছকই মজাবশত মনে হওয়া, তা বলতে বলতে ভোলেননি শোয়েব। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “পাকিস্তানের পরে, যদি এমন একটি দেশ থাকে যেখানে আমি প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি, তা হল ভারত। ভারত সফর থেকে আমার অনেক ভালো স্মৃতি রয়েছে।” পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটারও স্বীকার করেছেন যে, ভারত সফরের সময়টা দুদলের জন্য সত্যিই দারুণ ছিল।