জাঁকজমকহীন পুজোর পক্ষে! বাজেট কমিয়ে তা করোনা মোকাবিলায় ব্যবহারের ডাক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

জাঁকজমকহীন পুজোর পক্ষে! বাজেট কমিয়ে তা করোনা মোকাবিলায় ব্যবহারের ডাক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের
জাঁকজমকহীন পুজোর পক্ষে! বাজেট কমিয়ে তা করোনা মোকাবিলায় ব্যবহারের ডাক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনা পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজো নিয়ে গতবার জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর আদালতের নির্দেশে বিধিনিষেধ মেনে, পুজোর আয়োজন করেছিলেন উদ্যোক্তারা। এবারেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েও দুর্গাপুজো নিয়ে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে কলকাতা শহরের অন্যতম বড় বাজেটের দুর্গা পুজো করে নাকতলা উদয়ন সংঘ। এই পুজো রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পুজো হিসেবেই পরিচিত৷ আর করোনা আবহে জাঁকজমক এবং আড়ম্বরপূর্ণ পুজো চান না পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি এবার নাকতলার পুজোয় তিনি সামিল হচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন।

এবারের পুজোতে জাঁকজমকের বিরোধী পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজেই। করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে, অনেক খরচ করে মা দুর্গার আবাহন চান না পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তার পরিবর্তে সেই টাকা গরীবের মানুষের জন্য টিকা কেনা হোক, এমনটাই চাইছেন তিনি। শুধু নাকতলাই নয়, শহরের অন্যান্য বিগ বাজেটের পুজোর উদ্যোক্তাদেরও একই পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা৷ তিনি জানিয়েছেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর পুজোর জন্য সংগ্রহ করা অর্থের ৫০ শতাংশ করোনা জন্য দেওয়া উচিত ক্লাবগুলির। আমি নিজে পুজো করার পক্ষপাতী নই।’

উল্লেখ্য, নাকতলা উদয়ন সংঘের পুজোর আয়োজন অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। সেলিব্রিটিদের দিয়ে পুজোর প্রচার, অভিনব ভাবনা ফুটিয়ে তোলা, মণ্ডপের পিছনে অনেক অনেক টাকা খরচ- কোনও কিছুতেই কোনও খামতি থাকে না। আবার নামী এই পুজোয় অভাব থাকে না বিজ্ঞাপণ এবং স্পন্সরদের৷ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সমস্ত কিছুরই বিরোধী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ একথা নাকতলা উদয়ন সংঘের পুজোর সঙ্গে যুক্ত বাকি কর্মকর্তাদেরও জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের শিল্প মন্ত্রী৷

এদিন তিনি বিধানসভায় বলেন, ‘বড় পুজো এবার করতে পারব না৷ নাকতলা উদয়ন সংঘের সদস্যদেরও এ কথা জানিয়ে দিয়েছি৷ বাকিরা কে কী করবে আমি জানি না, কিন্তু বড় পুজোয় আমি নেই৷’ তিনি সব পুজো কমিটিকে পরামর্শ দিয়েছেন, সরাসরি টিকা কিনতে না পারলেও, দুঃস্থ মানুষের জন্য টিকা কিনতে কোনও স্বীকৃত সংস্থার সাহায্য নিতে পারে পুজো কমিটিগুলি৷ তাঁর আবেদন, ‘পুজো ছোট করে বাড়তি অর্থ বরং করোনা মোকাবিলায়, দুঃস্থ মানুষের জন্য খরচ করুন৷’

গত বছরও করোনার জন্যই পুজো কমিটিগুলি তাঁদের আয়োজনে অনেক কাটছাঁট করেছিল। এবারেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে শহরের অধিকাংশ পুজো কমিটির কর্তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাছাড়া রাজ্যের অনেক মন্ত্রী এবং শাসকদলের নেতা বড় বাজেটের পুজোর সঙ্গে জড়িত। তাই শেষ পর্যন্ত কী হয়? আদৌ রাজ্যের শিল্প মন্ত্রীর আবেদনে পুজো কমিটি গুলি সাড়া দেয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।

উল্লেখ্য, চলতি বছর করোনাবিধি মেনে, দুর্গাপুজো আয়োজন করতে ১৪ দফা নির্দেশিকা তৈরি করেছে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটি’। এর মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তা, পুরোহিতদের টিকাকরণ, মাস্ক, স্যানিটাইজার এবং খোলামেলা মণ্ডপ। তবে পুজো নিয়ে শেষ কথা বলবে রাজ্য সরকারই।