কী কী শারীরিক সমস্যা থাকলে, ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিরা পাবেন করোনা টিকা? তালিকা প্রকাশ কেন্দ্রের, রইল বিস্তারিত

কী কী শারীরিক সমস্যা থাকলে, ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিরা পাবেন করোনা টিকা? তালিকা প্রকাশ কেন্দ্রের, রইল বিস্তারিত
কী কী শারীরিক সমস্যা থাকলে, ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিরা পাবেন করোনা টিকা? তালিকা প্রকাশ কেন্দ্রের, রইল বিস্তারিত / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ থেকে দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফার করোনা টিকা দেওয়া হবে। সম্প্রতি করোনা টিকা নিয়ে বড় ঘোষণা করা হয়েছিল কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে। বলা হয়েছিল, এবার বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও অর্থের বিনিময়ে মিলবে করোনা টিকা।

অন্যদিকে আজ থেকে এই দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা টিকা পেতে চলেছেন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা। এর পাশাপাশি ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা ব্যক্তিরা, যাঁদের কো-মর্বিডিটি রয়েছে তাঁদেরও টিকা দেওয়া হবে। এই কো-মর্বিডিটির তালিকায় ২০টি শারীরিক সমস্যাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে হৃদযন্ত্রের সমস্যা। এক বছরের মধ্যে কোনও ব্যক্তি যদি হার্ট ফেলের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন, তবে তাঁকে করোনা টিকা দেওয়া হবে। কেন্দ্রের তরফে এই সংক্রান্ত একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

দেশজুড়ে করোনা টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১৬ জানুয়ারি। প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রথমসারির করোনা যোদ্ধাদের টিকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি ও শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের করোনা টিকা দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। কো-মর্বিডিটির ২০টি তালিকা সরকারের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে। যার মধ্যে গত এক বছরে হার্ট ফেলের সমস্যা, হৃদযন্ত্রের অন্য কোনও সমস্যা, ডায়াবিটিস, হাইপারেনশন, স্ট্রোক, কিডনি/ লিভার/ স্টিম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইত্যাদি একাধিক বিষয় রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে টিকা পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এছাড়া প্রাইভেট হাসপাতালে আয়ুস্মান ভারত সহ অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্য যোজনার আওতায় মিলবে ভ্যাকসিন। তবে সেক্ষেত্রে চার্জ লাগবে।

করোনা টিকা নিয়ে কেন্দ্রের ঘোষণায় বলা হয়েছিল যে, ১ মার্চ থেকে করোনার দ্বিতীয় দফার টিকা করণ শুরু হচ্ছে। ১০ হাজার সরকারি এবং ২০ হাজার বেসরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে দেওয়া হবে এই করোনার টিকা। সরকারি ক্ষেত্রে এই টিকা পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে, বেসরকারি ক্ষেত্র থেকে এই টিকা নিতে গেলে দিতে হবে টাকা।

সরকারের তরফে ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজের দাম ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকাকরণের সময় বয়সের প্রমাণপত্র (আধার কার্ড বা EPIC কার্ড) দেখাতে হবে। এছাড়া কো-মর্বিডিটি থাকলে তার তথ্যও দেখাতে হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এই করোনা টিকা নিতে গেলে, আপনি আগে থেকে কো-উইন ০.২ (Co-WIN 2.0 ) অ্যাপের মাধ্যমে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবেন। এছাড়াও আরোগ্য সেতুর মতো অ্যাপের মাধ্যমেও করোনার টিকা নিতে আগাম নাম নথিভুক্ত করা যাবে। এই অ্যাপগুলির মাধ্যমেই সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনার টিকাকরণ কবে হবে এবং তার সময় জানা যাবে। অন্যদিকে আবার টিকাকরণ কেন্দ্রে গিয়েও এই রেজিস্ট্রেশন করানো যাবে। সরকারি ক্ষেত্রে টিকা নিতে গেলে, কোনও টাকা দিতে হবে না। কিন্তু বেসরকারি ক্ষেত্রে টিকা নিতে গেলে, লাগবে ২৫০ টাকা।

জানা গিয়েছে, স্থানীয় কোন কেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, তা সরকারিভাবে প্রচার চালানো হবে। তাতে সরকারি কেন্দ্রের কথা জানতে পারবেন। প্রতিটি রাজ্যকে তাদের সাধ্যমতো করোনার টিকাকেন্দ্র তৈরি করতে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। বেসরকারি হাসপাতালগুলিও যাতে টিকাকরণের কর্মযজ্ঞে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে ব্যাপারে উদ্যোগী হতে রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে কোভিড টিকাকরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ কোটি ২১ লক্ষের বেশি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাকরণের গতি নির্ধারিত লক্ষ্যের থেকে কম হলেও, অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই পরিস্থিতিতে আম নাগরিকদের আজ থেকে টিকাকরণ শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.