বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২

২৩ বছরের শিক্ষকতায় ইতি! ভাগ্যের পরিহাসে চক-ডাস্টার ছেড়ে হাতে ঝাড়ু তুলে নিয়েছেন শিক্ষিকা

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২২, ০৮:১১ এএম | আপডেট: জুন ৩, ২০২২, ০৮:১১ এএম

২৩ বছরের শিক্ষকতায় ইতি! ভাগ্যের পরিহাসে চক-ডাস্টার ছেড়ে হাতে ঝাড়ু তুলে নিয়েছেন শিক্ষিকা
২৩ বছরের শিক্ষকতায় ইতি! ভাগ্যের পরিহাসে চক-ডাস্টার ছেড়ে হাতে ঝাড়ু তুলে নিয়েছেন শিক্ষিকা

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দু’মাস আগেও নিয়ম করে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিতে স্কুলে যেতেন শিক্ষিকা। হাতে থাকত চক ডাস্টার। ভাগ্যের পরিহাসে শিক্ষকতার চাকরি খোয়ান তিনি। রাতারাতি পাল্টে যায় কর্মজীবন। শিক্ষক থেকে সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি। স্কুলের শিক্ষিক থেকে হয়ে যান অন্য স্কুলের ঝাড়ুদার।

প্রাক্তন স্কুল শিক্ষিকার নাম উষা কুমারী। ৫৪ বছর বয়সী মহিলা তিরুঅনন্তপুরমের বাসিন্দা। বিগত ২৩ বছর ধরে টানা উপজাতি এলাকায় মাল্টি গ্রেড লার্নিং সেন্টার (এমজিএলসি)-এ দাপটের সঙ্গে শিক্ষকতার কাজ করেছেন। কিন্তু আচমকাই গত ৩১ মার্চ থেকে তাঁর জীবনে আসে আমূল পরিবর্তন। একটা দমকা হাওয়া এসে পুরো জীবনটাই যেন নিমেষে বদলে দেয়। এখন আগের মতই রোজ স্কুলে যান তিনি। তবে অন্য স্কুলে। হাতে এখন চক-ডাস্টারের পরিবর্তে দেখা যায় ঝাড়ু! শিক্ষিকা থেকে এখন তিনি ঝাড়ুদার!

কেব উষা কুমারী একা নন, তাঁর মতো আরও ৩৪৪ জন শিক্ষকও তাঁদের কাজ হারান। তাঁরা প্রত্যেকেই এমজিএলসি-র শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ কেন এই ছন্দপতন? গত ৩১ মার্চ সরকারের তরফ থেকে আচমকাই ওই সেন্টারগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে কাজ হারান শতাধিক শিক্ষক। বেশ কয়েকজনকে তিরুঅনন্তপুরমের একাধিক স্কুলে ঝাড়ুদার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। দুবেলা অন্ন জোগাতে কিছু তো করতে হবে! তাই বাধ্য হয়ে ওই ৩৪৪ জন কর্মহারার মধ্যে ৫০ জনই হাতে তুলে নেন ঝাড়ু। তাঁদের মধ্যেই একজন হলেন উষা কুমারী।

এই প্রসঙ্গে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন উষা। পুরো বিষয়টিতে নিজের ভাগ্যকেই দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, “দু’মাস আগেও কুন্নাথুমালায় উপজাতি সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিতাম। কিন্তু আজ আমার হাতে সেই চক, ডাস্টারের বদলে উঠে এসেছে ঝাড়ু।” কেবল শিক্ষকতার জন্য উষা এক ডজনেরও বেশি রাজ্য পুরস্কার পেয়েছেন। এর পাশাপাশি তাঁর ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় পুরস্কারও।

উষা বলেছেন, কারুর মুখাপেক্ষী হয়ে না, বরং নিজে কিছু করে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই জীবনধারণ করতে চান তিনি। কিন্তু শিক্ষকতার পেশা থেকে সরাসরি ঝাড়ুদার হয়ে কর্ম জীবন কাটানো তার কাছে একেবারেই সুখকর নয়। তাই রাজ্য সরকারের কাছে তার একান্ত অনুরোধ, খুব শীঘ্রই যেন তাঁর পদ পরিবর্তন করা হয়। এর পাশাপাশি পেনশনের পুরো টাকা পাওয়ার অনুরোধও জানান সরকারের কাছে।