শীতলকুচির পর এবার বাগদায়, আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছে রাজ্য পুলিশ! জানাল কমিশন

শীতলকুচির পর এবার বাগদায়, আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছে রাজ্য পুলিশ! জানাল কমিশন
শীতলকুচির পর এবার বাগদায়, আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছে রাজ্য পুলিশ! জানাল কমিশন / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একুশের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ফের চলল গুলি! শীতলকুচির রেশ কাটতে না কাটতেই, ষষ্ট দফার ভোটে ফের বঙ্গে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল। তফাৎ শুধু স্থানের। আর এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, এবার পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন ২ জন। তেমনটাই সূত্রের খবর।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ চলছিল শান্তিপূর্ণভাবেই। কিন্তু আচমকাই বুথের কাছে থাকা খাবারের দোকান ভোট চলাকালীন জটলা করেন গ্রামবাসীরা। সরে যেতে বললে, পুলিসকর্মীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়ে যায় তাঁদের। এরপর পুলিস আচমকাই গুলি চালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, এই ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছে নির্বাচন কমিশনও। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আত্মরক্ষার জন্য ৩ রাউন্ড গুলি চালাতে বাধ্য হন বাগদা থানার ওসি। আজ বাংলায় ষষ্ট দফায় ৪ জেলায় মোট ৪৩ আসনে ভোট ছিল। এদিন বাগদায় ৩৫ নম্বর বুথে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন দুষ্কৃতীর হাতে সেক্টর অফিসারের আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে, সেখানে চটজলদি ফরস নিয়ে পৌঁছান বাগদা থানার ওসি।

সেখানে উপস্থিত হলে, তাঁর উপরেও ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এরপরই আত্মরক্ষার খাতিরে গুলি চাতালে বাধ্য হন বাগদা থানার ওসি। মোট ৩ রাউন্ড গুলি চালান তিনি। এই গুলি চালানোর ঘটনায় ঘটনাস্থলে থাকা দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনের নাম বুদ্ধ সাঁতরা। তাঁর হাতে চোট রয়েছে। অপর আহত ব্যক্তির নাম মৃত্যুঞ্জয় সাঁতরা । যদিও তাঁর গুলির ক্ষত কিনা, তা প্রমাণিত নয়। এই মুহূর্তে তাঁরা দুজনেই চিকিৎসাধীন। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনায় মোট ৭ জনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চতুর্থ দফায় ভোটে গুলি চলেছিল কোচবিহারের শীতলকুচিতে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪ জন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্তর জলঘোলা হয়। যদিও গ্রামবাসীর হামলার মুখে আত্মরক্ষা স্বার্থেই গুলি চালানোর সাফাই দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফ থেকে। এখনও সেই রেশ কাটেনি। এরপর ফের পঞ্চম দফায় ভোটে আবার উত্তর ২৪ পরগনারই দেগঙ্গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তবে সেবার কাউকে লক্ষ্য করে নয়, শূন্যে গুলি চালানো হয় বলে জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে কমিশন। আর এবার বাগদা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.