বাংলার রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান! সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল

বাংলার রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান! সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল
বাংলার রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান! সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজই তাঁর হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার কথা ছিল। আজ হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের। ছুটি হল, তবে, জীবন থেকে। তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

গতকালই রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৯টা ২২ মিনিট নাগাদ কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খবর পেয়ে, বাড়ির কালীপুজো ছেড়ে হাসপাতালে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে যান দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের অসংখ্য ভক্তরা। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। একে একে শোকজ্ঞাপন করেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বিরোধীরাও। সকলের স্মৃতি চারণায় উঠে এসেছেন প্রিয় সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সত্তরের দশকে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দীপাবলির দিনে সেই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এমন আলোর দিনে অন্ধকার নেমে আসবে ভাবতেও পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে আমি অনেক দুর্যোগ দেখেছি, কিন্তু সুব্রতদার মৃত্যু আমার জীবনে সবথেকে বড় দুর্যোগ। সুব্রতার মন হাসিখুশি, পার্টি অন্তপ্রাণ আর হবে কিনা সন্দেহ আছে।’ বৃহস্পতিবার রাতেই এসএসকেএম হাসাপাতালে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘সুব্রতদার মরদেহ দেখতে পারব না।’

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই সব শেষ হয়ে গেল আচমকাই। আলোর উৎসবের মধ্যেই সবটা অন্ধকার হয়ে গেল। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে একের পর এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শোকপ্রকাশ করেছেন, প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সকলের কথায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে বাংলার রাজনীতিতে এক্তা যুগের অবসান হল। চলে গেলেন বাংলার কংগ্রেস রাজনীতির ত্রিমূর্তি প্রিয়-সোমেন-সুব্রত এই জুটির শেষ ব্যক্তিত্ব তথা ইন্দিরা গান্ধীর প্রিয় পাত্রও।

বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বৃহস্পতিবার রাতে সুব্রতের প্রয়াণের খবর শুনে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘দক্ষিণপন্থী রাজনীতির অনুসারী লে্‌ আমাদের মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য ছিল। ওঁর রাজনৈতিক জীবন সত্যিই ঈর্ষণীয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন নেতা ছিলেন, উনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।’

কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছিল। বাংলার রাজনীতিতে সচরাচর সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো নেতার দেখা মেলে না। ও ভবিষ্যত দেখতে পেত, তাই কখনও সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হত না। অনেকবার তর্ক-বিতর্কে জড়িয়েছি, কিন্তু পরে আবার প্রয়োজনে পাশেও পেয়েছি।’  কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী শোকপ্রকাশ করে বলেন, ‘১ নভেম্বরও কলকাতার পিজি হাসপাতালে গিয়ে দেখা করে এলাম, গল্প করলাম, সে আর নেই ভাবতেই পারছি না। বাংলার কংগ্রেস রাজনীতির ত্রিমূর্তি – প্রিয়, সুব্রত, সোমেন এক এক করে সকলেই চলে গেলেন।’

মন্ত্রীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন বাম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। কলকাতার মেয়র পরে সুব্রতের উত্তরসূরি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘বর্ণময় ব্যক্তিত্বের প্রয়াণ। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত স্তরে উনি কখনও বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেননি। এটা ওঁর চরিত্রের বড় দিক। আমি ওঁর (সুব্রত) পরে মেয়র হয়েছিলাম। সে সময় উনি নানা পরামর্শ দিয়েছেন আমাকে।’

এহেন বর্ণময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে আরও অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। শোক প্রকাশ করেছে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং, সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও। ব্যক্তিগত সম্পর্ক যে রাজনীতির ঊর্ধ্বে, ফের তা প্রমাণিত। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকবিহ্বল গোটা রাজনৈতিকমহল। সকলেই সমবেদনা জানিয়েছেন মন্ত্রীর পরিবারকে।