সোমবার, ০৮ আগস্ট, ২০২২

মন্ত্রিত্বের পর তৃণমূল কংগ্রেসেও ব্রাত্য পার্থ! সব পদ থেকে তাঁকে সরালো দল

আত্রেয়ী সেন

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২২, ০৮:০৩ পিএম | আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২২, ০৮:১৯ পিএম

মন্ত্রিত্বের পর তৃণমূল কংগ্রেসেও ব্রাত্য পার্থ! সব পদ থেকে তাঁকে সরালো দল
মন্ত্রিত্বের পর তৃণমূল কংগ্রেসেও ব্রাত্য পার্থ! সব পদ থেকে তাঁকে সরালো দল

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র হাতে গত শনিবারই গ্রেফতার হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে ১০ দিনের ইডি হেফাজতে রয়েছেন আদালতের নির্দেশে। তাঁর গ্রেফতারির ৬ দিন পর তাঁকে রাজ্য সরকারের মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারিত করা হয়েছে। আজই মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁকে অপসারণের কথা ঘোষণা করা হয়। চারটি দফতরের মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হল তাঁকে। জানা গিয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে সেই চারটি দফতরের মন্ত্রিত্ব সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। এদিকে, আজ বিকেলেই ছিল দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক। সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন যে, মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের যে কোটি পদে ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সেই সবকটি পদ থেকেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হল। 

অভিষেক এদিন জানিয়েছেন, যতদিন তদন্ত চলবে তিনি দলের কোনও পদে থাকবেন না। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এও জানিয়েছেন যে, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলে, দল তাঁকে সসম্মানে ফিরিয়ে নেবে। তবে, এখনও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁকা পদে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনটাই জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন অভিষেকের ডাকা দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও মলয় ঘটক। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সদস্য না হলেও আজকের এই বৈঠকে ছিলেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। 

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস এমন একটি দল যা তৈরি হয়েছিল মানুষের জন্য। অনেক লড়াই করে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। তৃতীয়বার মানুষের আর্শীবাদ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে দল। সাধারণ মানুষের সঙ্গে অবিচার হলে কোনওমতেই বরদাস্ত করবে না দল। কেউ যদি সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে অর্থ রোজগারের চেষ্টা করে তাহলে তাঁকে বিন্দুমাত্র সাহায্য করবে না দল, একথা স্পষ্ট করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ 

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন যে, ‘যাঁর বাড়ি থেকে অর্থ উদ্ধার হয়েছে তিনি তৃণমূলের কেউ নন। তাহলে অনেকে প্রশ্ন করবেন পুজোর সময় এক ফ্রেমে কীভাবে উপস্থিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? পুজোর সময় ২০০ লোক থাকে। সামনে কে থাকবে কে ছবি নেবে তা তাঁর পক্ষে দেখা সম্ভব নয়।’ অভিষেকের কথায়, ‘যিনি দোষী তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৈরি হয় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এই রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দলের মহাসচিবের পদে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সৈনিক ছিলেন। তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁর উপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। দলের মহাসচিব পদের পাশাপাশি পার্থ চট্টোপাধ্যায় জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য, শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সদস্য, দলের জাতীয় সহ-সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি দলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু আজকের পর তিনি এই সব কটি পদ থেকেই অপসারিত হলেন। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে, জনতার কাজের স্বার্থে তাঁকে সব পদ থেকে সরানো হল। 

এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দলের সব পদ থেকে সরানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোথা থেকে এতো কালো টাকা উদ্ধার হচ্ছে? এর উৎস কী? তাও ইডির তদন্ত করা উচিত বলে মনে করছে তৃণমূল। এদিন অভিষেক বলেন, ‘আমাদের শুধু বক্তব্য সময়ে তদন্ত শেষ করতে হবে। এখন একজনকে গ্রেফতার করে একটা বাতাবরণ তৈরি করে তা চলতেই থাকবে এবং বিরোধীরা অপপ্রচার চালাবে তা হতে পারে না। নোটবন্দির পর এত টাকা এল কোথা থেকে? টাকার উৎস কী? যে সময় দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে এবং নোটগুলি যে সময়ের তা মিলছে কি মিলছে না এর তদন্ত হোক। আমরা বারবার বলেছি আবারও বলছি আদালতে যদি তদন্তকারীরা এমন কোনও তথ্য প্রমাণ দেন এবং আদালত সেই তথ্য প্রমাণে শিলমোহর দেন যাতে দোষ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে যত বড় নেতাই হোক তৃণমূল কংগ্রেস সরকার নিশ্চিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

প্রসঙ্গত, এদিন  দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণের কথা ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমাদের দল কঠোর। কষ্ট করে রাজনীতি করতে হয়। আমরা পার্থ চ্যাটার্জিকে মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।’ জানা গিয়েছে, শিল্প-বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিষদীয় এই চার দফতরের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়েছে রাজ্য সরকার। এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, এই সব দফতরগুলি এখন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বেই থাকবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর দলের শ্রিঙ্খলারক্ষা কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই নজর ছিল সকলের। জল্পনা ছিল, এবার দলের সব পদ থেকেও পার্থকে সরানো হবে। আর বাস্তবেও তেমনটাই হল।