‘ঘরছাড়া’ কর্মীদের তালিকা চাইলেন প্রধান বিচারপতি, ফের নতুন তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

‘ঘরছাড়া’ কর্মীদের তালিকা চাইলেন প্রধান বিচারপতি, ফের নতুন তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
‘ঘরছাড়া’ কর্মীদের তালিকা চাইলেন প্রধান বিচারপতি, ফের নতুন তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলায় সিবিআই এবং সিটকে নতুন করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি আই পি মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি ঘরছাড়া রাজনৈতিক কর্মীদের তালিকাও এদিন চেয়েছেন বিচারপতি।

রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আগেই জমা দিয়েছিল রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। সেই রিপোর্ট একমাস পুরনো হয়ে গিয়েছে। তাই বর্তমানে সেই তদন্ত ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে এই মুহূর্তে, কত দূর এগোল তা জানার জন্যই নতুন রিপোর্ট চাইলেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ।

এদিন মামলাকারীদের আইনজীবী ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গ তোলেন। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি আই পি মুখোপাধ্যায় জানান, আগে তদন্ত শেষ হোক, তারপর ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গ। মামলাকারী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এদিন অভিযোগ করেন যে, শ্যামনগরের কিছু বাসিন্দা এখনও বাড়িতে ফিরতে পারছেন না এবং তাঁরা কাজেও যোগ দিতে পারছেন না। একথা শোনার পর, প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ঘরছাড়া সেই সব মানুষদের দীর্ঘ তালিকা অ্যাডভোকেট জেলারেলকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আগামী ২৩ ডিসেম্বর ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে বৃহত্তর বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এফআইআর হলেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আজ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ৪০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এখনও তদন্ত চলছে। একুশের বিধানসভা ভোটের পর, রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠেছিল বেশ কয়েকটি। তার মধ্যে বেশিরভাগ অভিযোগই করে বিজেপি। তাদের অভিযোগ ছিল, বহু ক্ষেত্রেই পুলিশ নিস্ক্রিয়তা দেখিয়েছে। রাজ্যের শাসকশিবিরের বিরুদ্ধে মামলা করতে অনিচ্ছা দেখিয়েছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। এর পর গত ১৯ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।

অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই এই মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার আবেদনে জানিয়েছিল, রাজ্যের অনুমতি না নিয়েই তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এই মর্মে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সেই মামলায় কেন্দ্রের তরফ থেকে সুপ্রিম কোর্টে থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সিবিআইকে তদন্তের অনুমতি দেওয়ার বা সিবিআই তদন্ত বন্ধ করে দেওয়ার কোনও ক্ষমতা নেই রাজ্যের।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসার এখনও পর্যন্ত ৪৩ টি এফআইআর হয়েছে। উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসা তদন্তে নেমে প্রথম সিবিআই যে মামলায় তদন্ত শুরু করেছিল সেটা বীরভূমের।