‘বিজেপিতে কাজ করার থেকে টাকা চাওয়ার লোক বেশি’, বিস্ফোরক দাবি বেসুরো প্রবীর ঘোষালের

‘বিজেপিতে কাজ করার থেকে টাকা চাওয়ার লোক বেশি’, বিস্ফোরক দাবি বেসুরো প্রবীর ঘোষালের
‘বিজেপিতে কাজ করার থেকে টাকা চাওয়ার লোক বেশি’, বিস্ফোরক দাবি বেসুরো প্রবীর ঘোষালের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিজেপিতে ভাঙন লেগেই আছে। একুশের নির্বাচনের পর থেকেই একের পর এক বিধায়ক, নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীরা বিজেপি ছাড়ছেন। অনেকেই ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ফের একবার পদ্ম শিবিরে ভাঙনের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এবার বেসুরো একুশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়ার বিজেপি প্রার্থী প্রবীর ঘোষাল। প্রথমে তিনি তৃণমূল মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’য় লিখলেন ‘কেন বিজেপি করা যায় না’। এরপর সরাসরি সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন যে, মানসিকভাবে আর বিজেপির সঙ্গে নেই তিনি।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর উত্তরপাড়ার এই বিজেপি প্রার্থীর মুখেই শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা। এবার বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তিনি।

এবার কয়েককদম এগিয়ে সরাসরি তৃণমূলের মুখপত্রে কলম ধরলেন তিনি। ‘কেন বিজেপি করা যায় না, ওখানে কাজ করার থেকে টাকা চাওয়ার লোক বেশি’ শীর্ষক একটি সম্পাদকীয়ও লেখেন তিনি। এরপর সাংবাদিক সম্মেলনে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে, একাধিক অভিযোগ করেন প্রবীর ঘোষাল। তিনি বলেন, ‘বিজেপি কোনও রাজনৈতিক দল নয়। বিজেপি করা খুব মুশকিল। ভোটের সময়ে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটাই আজ লিখেছি। ভোট চলাকালীনও আমি দু’বার সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। বিজেপতে অনেক স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ওখানে বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।’ অভিযোগে তিনি আরও বলেছেন, বিজেপিতে টাকা চাওয়ার লোক বেশি। নিচু তলায় টাকার খাই বেশি। বিজেপির শাখা সংগঠনের সবাই নেতা। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, মানসিকভাবে আর বিজেপিতে নেই।

অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে প্রবীর লিখেছেন, তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী কাজে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এক বিজেপি নেতা হঠাৎ তাঁকে এসে বলেন, তাঁর ব্যাগ থেকে একলক্ষ টাকা চুরি গেছে এবং সেটা হয়েছে দলেরই নির্বাচনী কার্যালয় থেকে। শেষপর্যন্ত ওই নেতার কাকুতি মিনতিতে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল বলে প্রবীর অভিযোগ করেছেন। পরিস্থিতি দেখে বিরক্ত প্রবীর দু’বার ভোটের লড়াই থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন। বিজেপি সম্পর্কে তাঁর হতাশা উগড়ে দিয়ে প্রবীরের উপলব্ধি, ‘বিজেপি’র মতো দিশাহীন একটি রাজনৈতিক দলে আমাদের মতো মানুষরা নি:সন্দেহে একেবারেই বেমানান।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৩০ জানুয়ারি চাটার্ড বিমানে করে দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবীর ঘোষাল, বৈশালী ডালমিয়ারা।  উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রাজীব তৃণমূলে ফিরেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক প্রবীর ঘোষালও কি ফের ঘরে ফেরার কথা ভাবছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য প্রাক্তন বিধায়ক জানিয়েছেন যে, ‘এখনই কিছু ভাবিনি। এখন অবসর জীবন কাটাচ্ছি। লেখালিখি নিয়ে রয়েছি।’

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনেও ফের একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রবীর ঘোষাল। তিনি বলেন, ‘আমার মা-এর মৃত্যুর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ফোন করেছিলেন। বিজেপির কোনও বড় নেতা ফোন করেননি। কোনও সমবেদনা জানাননি।’ বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কেই এগিয়ে রাখেন প্রবীর ঘোষাল, এদিন সেটাও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, প্রবীর ঘোষালের এই উপলব্ধি নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘একজন বিজেপি নেতা হিসেবেই প্রবীর ঘোষাল তাঁর অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। বিজেপির ভিতরের এই বিষয়টি শুধুমাত্র বিজেপি কর্মীদেরই নয়, জানা উচিত সাধারণ মানুষেরও।’

অন্যদিকে, বিজেপি যদিও প্রবীরের এই অভিযোগ আমল দিতে রাজি নয়। রাজ্যস্তরের শীর্ষস্থানীয় নেতা প্রতাপ ব্যানার্জি বলেন, ‘দলের কাছে কোনওদিন প্রবীরবাবু এই অভিযোগগুলো করেছিলেন কি না সেটা অন্তত আমার জানা নেই। হয়তো তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে প্রবীরবাবু এখন কারও গুডবুকে থাকার চেষ্টা করছেন।’