দ্বিতীয় দফার প্রচার শেষ, প্রস্তুতি তুঙ্গে নির্বাচনের

দ্বিতীয় দফার প্রচার শেষ, প্রস্তুতি তুঙ্গে নির্বাচনের
দ্বিতীয় দফার প্রচার শেষ, প্রস্তুতি তুঙ্গে নির্বাচনের

রাত পোহালেই আগামী ১ এপ্রিল রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ হল। শেষদফার প্রচার সারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত শাহরা। শেষ প্রচারে ঝড় তুললেন মিঠুন চক্রবর্তী । দ্বিতীয় দফার শেষ প্রচারের দিন ভোটদাতাদের উদ্দেশে অডিও বার্তা দিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এদিন নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে যান বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু । দ্বিতীয় দফার প্রচারে সবচেয়ে বড় চমক ২০ দিন পর হুইলচেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । প্রচার শেষ হওয়ার পর এবার ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করে সব নেমে পড়েছে ভোট যুদ্ধের ময়দানে। আর ভোট প্রচারের তাপে যেন ফুটছে নন্দীগ্রাম। প্রার্থী দুই তারকা, তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারী। একজনের প্রচারে হাজির হলেন দুই তারকা প্রচারক। অন্য জনের মঞ্চে তারকা নেই। শুধু তিনিই আছেন। শুভেন্দুর হয়ে প্রচার করলেন অমিত শাহ, বিকেলে হাজির হন মিঠুন। কিন্তু তৃণমূলের চিত্রনাট্যের কেন্দ্রে শুধুই মমতা। তাই তারকা প্রচারক না, প্রার্থী ও নেত্রীতেই ভরসা দলের। এ ভাবেই এতদিনের টানটান প্রচারের শেষ দৃশ্যের চিত্রনাট্য রচিত হল ‘আন্দোলনভূমি’ নন্দীগ্রামে।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন নন্দীগ্রামে। সেখানে মমতা খোদ তৃণমূলের প্রার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে সেখানে বিজেপি-র প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে প্রচারের জন্য রবিবার থেকে সেখানে রয়েছেন মমতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুইলচেয়ার বেরতেই নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তিনি।

বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও ধর্মনিরপেক্ষ একটি দল মিলে যৌথ দল তৈরি করেছে। যেখানে শামিল যুব সমাজ। তারা চায় শিল্প, শিক্ষা, সমাজের উন্নত মূল্যবোধ। তাই বুদ্ধদেবের আহ্বান, রাজ্যকে বিপদ থেকে রক্ষা করুন। বলছেন “নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে এই ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে ক্ষমতায় আনুন। যে সরকার বিপদগ্রস্ত গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে। রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিকের জীবন-জীবিকার দাবিগুলি সম্পর্কে সতর্ক থেকে কাজ করবে।”
অসুস্থতার কারণে গত মাসে বামেদের ব্রিগেডে যোগ দিতে পারেননি বুদ্ধদেববাবু। তবে আপাতত তিনি ভাল আছেন। বিশ্রামে থাকাকালীনও দলের সমস্ত কর্মসূচির খবর রাখছেন।

দ্বিতীয় দফার প্রচারে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ২০ দিন পর হুইলচেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের টেংগুয়ায় তৃণমূলের জনসভায় প্রচার মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন বলে নিজেই হুইলচেয়ার ছেড়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপরেই তিনি হুইলচেয়ার থেকে ওঠার চেষ্টা করেন নিজেই।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, শুধু নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের ৩৫৫টি বুথের জন্যই মোতায়েন করা হয়েছে ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। থাকছে সমসংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম। সব বুথেই থাকবে মাইক্রো অবজার্ভার। ৭৫ শতাংশ বুথেই ওয়েব কাস্টের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। মোবাইল ও নেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে ৩১শে মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত কানেকশনে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়। নন্দীগ্রামে ১ জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক ও ব্যয় পর্যবেক্ষককে নিযুক্ত করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে বাড়ানো হচ্ছে সেক্টর অফিসারের সংখ্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী যে নিরাপত্তারক্ষী পান, সেই নিরাপত্তা রক্ষীরাই ভোটের দিন তাঁদের সঙ্গে থাকবেন।-

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.