আবারও রক্তাক্ত ভূস্বর্গের মাটি! শ্রীনগরে স্কুলে জঙ্গি হামলা, গুলিতে মৃত্যু দুই শিক্ষকের

আবারও রক্তাক্ত ভূস্বর্গের মাটি! শ্রীনগরে স্কুলে জঙ্গি হামলা, গুলিতে মৃত্যু দুই শিক্ষকের
আবারও রক্তাক্ত ভূস্বর্গের মাটি! শ্রীনগরে স্কুলে জঙ্গি হামলা, গুলিতে মৃত্যু দুই শিক্ষকের / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের একবার রক্তাক্ত হল ভূস্বর্গের মাটি। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীনগরের সাফা কাদাল এলাকায় একটি সরকারি স্কুলে হামলা চালায় কয়েক জন জঙ্গি। ঠিক কত জন জঙ্গি হামলা চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে দুই শিক্ষকের। দুজনকে উদ্ধার করে এসকেআইএমএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সেখানেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা নাগাদ এই জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটে শ্রীনগরের সাফা কাদাল এলাকায়। ওই এলাকার গভর্নমেন্ট বয়েজ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল-এ কর্মরত ছিলেন মৃত দুই শিক্ষক। এদের মধ্যে একজন স্কুলের অধ্যক্ষ সুখবিন্দর কউর, বয়স ৪৪ বছর। অপর শিক্ষকের নাম দীপক চাঁদ, বয়স ৩৮।

জানা গিয়েছে, হামলার সময় চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক অধ্যক্ষের ঘরে বসে বৈঠক করছিলেন। তখনই প্রবেশ করে জঙ্গিরা। দল থেকে মুসলিম শিক্ষকদের আলাদা করে সরিয়ে দুই হিন্দু শিক্ষককে টেনে বেরে করে আনা হয় স্কুল বিল্ডিংয়ের বাইরে। এরপর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল এবং অপর শিক্ষককে গুলি করা হয়। স্কুলের মাঠেই তাঁরা লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

এদিকে, জঙ্গি হামলার খবর পেয়েই স্কুলে পৌঁছন নিরাপত্তারক্ষীরা। কিন্তু তত ক্ষণে জঙ্গিরা স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এলাকায় তারা লুকিয়ে রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য তল্লাশি শুরু করেছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় নেয়নি।

অন্যদিকে, হামলার নিন্দা করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। টুইট করে তিনি বলেন, ‘শ্রীনগর থেকে আবার খারাপ খবর এসেছে। এ বার একটি সরকারি স্কুলের দুই শিক্ষককে জঙ্গিরা হত্যা করেছে। এই অমানবিক সন্ত্রাসের নিন্দার কোনও ভাষা নেই। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত কয়েক দিনে কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে তিনটি হামলার ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২ অক্টোবরও জঙ্গি হামলায় একজনের মৃত্যু হয়। এরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়। তারপরেও এদিন ফের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটল।