শীতলকুচি কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্যের জের, দিলীপ ঘোষকে শো-কজ কমিশনের!

শীতলকুচি কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্যের জের, দিলীপ ঘোষকে শো-কজ কমিশনের!
শীতলকুচি কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্যের জের, দিলীপ ঘোষকে শো-কজ কমিশনের!

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাহুল সিনহার পর এবার শীতলকুচি কাণ্ডে বিতর্কিত এবং প্ররোচনামূলক মন্তব্যের জেরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে শো-কজ নোটিশ দিল নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল সকাল ১০ টার মধ্যে এই নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে।

যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন যে, তিনি এখনও কোনও নোটিশ পাননি। পাশাপাশি এদিন শো-কজের নোটিশ দেওয়ার পর, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন।

চতুর্থ দফায় কোচবিহারের শীতলকুচির একটি বুধে গোলমালের জেরে গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাতে মৃত্যু হয় ৪ জনের। এরপর রবিবার বরানগরে পার্নো মিত্রের প্রচারে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বাংলায় দুষ্টু ছেলে আর থাকবে না। কেউ যদি বাধা দেয় শুনবেন না। শীতলকুচিতে দেখেছে কি হয়েছে, এবার বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারির পর, আজ শীতলকুচি কাণ্ডে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে বিনা নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার জন্য রাহুল সিনহার নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারির পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, বিজেপির নেতারা একাধিকবার আপত্তিজনক এবং প্ররোচনামুলক মন্তব্য করলেও, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না নির্বাচন কমিশন? নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আরও জোরালো হতে শুরু করে।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে রাহুল সিনহার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বলা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত, কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘনকারী, তাই বিনা নোটিশে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর প্রচার বন্ধ রাখছে নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মারা যান ৪ জন। যা নিয়ে চাপানউতোরের মাঝেই বিতর্কিত এবং বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, ‘ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছেলেকে যারা গুলি করেছে, তাদের নেত্রী আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। মস্তানরাজ কায়েম করে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন।’ এরপরই এরসঙ্গে তিনি আরও যুক্ত করে বলেন, ‘শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঠিক কাজ করেছে। তাদের উপর বোমা ছোঁড়া হচ্ছে। আবারও গোলমাল করলে এই জবাবই দেবে। কেন চারজনকে মারল? ৮ জনকে গুলি করে মারা উচিত ছিল। এর জন্য বাহিনীকেই শোকজ করা উচিত।

রাজনৈতিক নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্য নেগেই রয়েছে, এর মাঝেই কমিশনের বেনজির সিদ্ধান্ত, অতীতে এই ধরনের ঘটনা এ রাজ্যে শোনা যায়নি। তবে, এরপরেও রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের লাগামছাড়া এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য বন্ধ হবে কিনা তা তো সময়ই বলবে।