আগের মতো এখন আর রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন হয় না! আক্ষেপ ফিরহাদের

আগের মতো এখন আর রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন হয় না! আক্ষেপ ফিরহাদের
আগের মতো এখন আর রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন হয় না! আক্ষেপ ফিরহাদের

করোনা আবহে ফিকে এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী। জোড়াসাঁকো আড়ম্বরহীন। বাজছে না কবির গান, কবিতা। সবই যেন কেমন ফ্যাকাশে। তবু এই সময়ে এদিন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। এদিন সকালে গিয়ে সেখানে তিনি রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন। পাশাপাশি আগের মতো এখন আর রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন হয় না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

করোনা বিধি মেনেই জোড়সাঁকোতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন ফিরহাদ হাকিম। বাইরে থেকে যাঁরা কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন, তাঁরাও জোড়াসাঁকোর বাইরের মূর্তিতে মাল্যদান করতে পারবেন। তবে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি এবারে মিলছে না অতিমারির কারণে।

এদিন মাল্যদান করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে ফিরহাদ বলেন, “যবে থেকে জ্ঞান এসেছে, তবে থেকেই রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন করে এসেছি। যখন খুব ছোটো ছিলাম, তখন বাড়ির ছাদে চার-পাঁচটা ইট দিয়ে বেদি বানিয়ে, পাড়ার দোকান থেকে ছোট্ট ফোটো কিনে রবি পুজো করতাম। বড় হয়ে রবীন্দ্রজয়ন্তীতে মনে হত উৎসবের দিন। এখন একটা এমন পরিস্থিতি, যেন মানুষ মানুষকে দেখলে ছিটকে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে যে উল্লাস, তা এবার নেই।”

এরপরেই এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকে আরো একবার এক হাত নিলেন তিনি। করোনা নিয়ে যে পরিমাণে ভ্যাকসিনের দরকার ছিল তা এখনো পর্যন্ত যোগান দিয়ে উঠতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের অপদার্থতা তা বারবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। যখন ভ্যাকসিন নিয়ে সিরাম বা বায়োটেকের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল তখন প্রধানমন্ত্রী থালা বাজিয়ে, প্রদীপ ধরিয়ে কোভিড তাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, তা করে যে কখনোই সেটা সম্ভব নয় তিনি সেটা বুঝতেই পারেননি”।

অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধি নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেভাবে জিনিসের দাম বেড়ে চলেছে যার একমাত্র কারণ কেন্দ্রীয় সরকার। পুঁজিবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে কেন্দ্র”।