দল জয়-হীন হতেই রাজ্য বিজেপির অন্দরের আসল পরিস্থিতি ফাঁস রাহুল সিনহার! অভিযোগ কার বিরুদ্ধে?

দল জয়-হীন হতেই রাজ্য বিজেপির অন্দরের আসল পরিস্থিতি ফাঁস রাহুল সিনহার! অভিযোগ কার বিরুদ্ধে?
দল জয়-হীন হতেই রাজ্য বিজেপির অন্দরের আসল পরিস্থিতি ফাঁস রাহুল সিনহার! অভিযোগ কার বিরুদ্ধে?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সদ্য সদ্য দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ই-মেল করে বিজেপি ত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মূল অভিযোগ, দল তাঁকে দিনের পর দিন ধরে ক্রমশ অবহেলা করেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর আরও অভিযোগ, বিজেপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ক্রমশ। সরাসরি রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন এই টলিউড অভিনেতা। এদিকে, জয়ের দল ছাড়ার এই ঘোষণার পরই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা। তিনিও দলের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন। উল্লেখ্য, রাহুল সিনহার হাত ধরেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর তাই জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের জন্য দলীয় নেতৃত্বের একাংশকে দায়ী করেছেন রাহুল সিনহা। শনিবার দলের রাজ্য সদর দফতরে ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানের পরই জয়ের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাহুল সিনহা দাবি করেন, জয়ের সঙ্গে পার্টির যোগাযোগের অভাব ছিল, আর সে কথা স্পষ্টভাবে মেনে নিতে হবে। তাঁর আরও দাবি, শুধুমাত্র এই কারণেই জয়ের মতোই আরও অনেকেই দল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। অনেকের মধ্যেই হতাশা কাজ করছে। তাঁদের সঙ্গে দলের যোগাযোগের অভাব রয়েছে।

বিজেপির এই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেন যে, ‘জয়কে দলে এনেছিলাম আমি। কিন্তু ওর সঙ্গে দলের যতটা সম্পর্ক থাকা দরকার ছিল, ওর পাশে যতটা আমাদের দাঁড়ানোর দরকার ছিল, তা আমরা করতে পারিনি। ওর মধ্যে রাজনৈতিক হতাশা আছে, শারীরিক হতাশা আছে, আর্থিকভাবে হতাশা আছে, পারবারিকভাবেও হতাশা আছে। কিন্তু দলের পক্ষ থেকে এই কোনও বিষয়ে ওঁর পাশে দাঁড়ানো হয়নি। আমার সঙ্গে ওর ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকলেও, দলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ক্ষীণ। আর একা মানুষকে ভুল বোঝানোর লোকের অভাব হয় না।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তাঁকে সরিয়ে, একুশের নির্বাচনের আগে, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করে বিজেপি৷ সম্প্রতি সেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য ফের তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। এদিকে, কয়েকদিন আগেই জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ এই সমস্ত বিষয়ই উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ প্রসঙ্গেও রাহুল সিনহা বলেন, ‘পদে না থেকেও দলের কাজ যে করা যায়, আমি সেটা করে দেখিয়ে দিয়েছি। পদের জন্য যারা দল ছাড়ে তারা তো লোভী ছাড়া আর কিছু নন। লোভকে সংযত করাই তো জীবনের কলা। আমি আশা করব, জয় দল ছাড়বে না।’ রাহুল সিনহা জয়ের পাশে দাঁড়ালেও, তাঁর অভিযোগ মানতে চাননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার৷ তাঁর এ প্রসঙ্গে পাল্টা দাবি, ‘উনি (জয় বন্দ্যোপাধ্যায়) অসুস্থ ছিলেন৷ দলের রাজ্য দফতরেও আসেন না তেমন৷ আমি রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর ওঁর থেকে কোনও ফোন, চিঠি পাইনি৷ ক্ষোভ থাকলে তো আগে রাজ্য নেতৃত্বকে জানাতে হবে৷ আমাকে উনি কিছুই জানাননি।’