‘বিরোধী নেতাকে বলব, মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ না করে সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে’, ফের বিস্ফোরক রাজীব!

'বিরোধী নেতাকে বলব, মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ না করে সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে', ফের বিস্ফোরক রাজীব!
'বিরোধী নেতাকে বলব, মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ না করে সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে', ফের বিস্ফোরক রাজীব!

সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের আরেকবার বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর অনবরত সমালোচনা করার জন্য এবার ‘বিরোধী নেতা’র বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি। বোঝাই যাচ্ছে, নাম না করলেও তাঁর নিশানার তীর শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই। রাজীবের সাম্প্রতিক ফেসবুক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ফের শুরু হয়েছে জল্পনা। কী লিখলেন রাজীব?

এদিন ফেসবুকে রাজীব লেখেন, “বিরোধী নেতাকে বলব যার নেতৃত্বে ও যাকে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চেয়ে বাংলার মানুষ ২১৩ টি আসনে তাঁর প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন সেই মুখ্যমন্ত্রীকে অযথা আক্রমণ না করে সাধারণ মানুষের দুর্দশা মুক্তির জন্য পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের মূল্য রাশ করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।” অর্থাৎ রাজীব একাধারে মুখ্যমন্ত্রীকে সমালোচনার বিরোধিতা করছেন। পাশাপাশি পেট্রোপণ্যের মূল্য নিয়েও সরব হয়ে বিরোধী নেতাদের বিষয়টি নজরে আনতে চাইছেন। এক্ষেত্রে যেন কিছুটা তৃণমূলের সুরেই গলা মেলাতে দেখা গেল রাজীবকে।

তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও নিজের দল বিজেপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন। গত ৮ জুন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমেই রাজীব লিখেছিলেন, “সমালোচনা তো অনেক হলো। মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালো ভাবে নেবে না। আমাদের সকলের উচিত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কোভিড আর ইয়াস দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে থাকা।” সেবারও নিশানায় ছিল বিজেপি নেতৃত্বই।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেই দল ছেড়েছিলেন তৃণমূল নেত্রীর স্নেহস্পদ রাজীব। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও কু কথা বলেননি তিনি। বরং বিধানসভা থেকে বেরিয়ে আসার সময় মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সঙ্গে করে নিয়ে বেরোন তিনি। তিনি বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি চিরকাল শ্রদ্ধা করবেন। এরপরই গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান রাজীব।

তবে বিজেপি ভোটে হারার পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন রাজীব। ভোট পরবর্তী বিজেপির একটিও বৈঠকে তাঁকে আর দেখা যায়নি। বরং তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হয়ে একাধিক তৃণমূল নেতার বাড়িতে দেখা গিয়েছে রাজীবকে৷ এরই মধ্যে আজকের ফেসবুক পোস্ট তাঁর তৃণমূলে ফেরার জল্পনার আগুনের আঁচ যেন আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিল। তবে তিনি তৃণমূলে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলবে।