১৯ দিনের শিশুকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে শিউরে উঠলেন মা! হাসপাতালে সদ্যোজাতর পায়ের অংশ খুবলে খেল ইঁদুর!

১৯ দিনের শিশুকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে শিউরে উঠলেন মা! হাসপাতালে সদ্যোজাতর পায়ের অংশ খুবলে খেল ইঁদুর!
১৯ দিনের শিশুকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে শিউরে উঠলেন মা! হাসপাতালে সদ্যোজাতর পায়ের অংশ খুবলে খেল ইঁদুর!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ চূড়ান্ত গাফিলতির উদাহরণ! পাশাপাশি মর্মান্তিকও বটে। সোমবার রাত তিনটে নাগাদ হাসপাতালে নিজের একরত্তিকে কোলে তুলে দুধ খাওয়াতে গিয়ে, শিউরে উঠলেন মা। মাত্র ১৯ দিনের সন্তানের পা থেকে তখন চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে। সন্তানের গোড়ালি থেকে বাকি অংশ খুবলে নেওয়া হয়েছে। খুবলে নিয়েছে বড় ইঁদুর। মধ্যপ্রদেশের সরকারি হাসপাতালের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় রীতিমতো আঁতকে উঠেছে দেশবাসী। এর পাশাপাশি এটাও পরিষ্কার যে, হাসপাতাল কর্মী, নার্সদের তরফে কতোটা গাফিলতি থাকলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ হয়েছিল প্রিয়াঙ্কা ও কিষাণ ডাইমার সন্তান। এরপর প্রিম্যাচিওর বা অপিরণত শিশুকে বিশেষ ‘কেয়ারে’ রাখা হয় মধ্যপ্রদেশের সরকারি হাসপাতাল মহারাজা যশবন্ত রাও-এ। সোমবার রাতে সন্তানকে দুধ খাওয়াতে ওঠেন প্রিয়াঙ্কা। শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন, তাঁর সন্তান চিৎকার করে কাঁদছে। তারপরই বুঝতে পারেন যে, ইঁদুরের কামড়ে তাঁর সন্তানের এই হাল হয়েছে। পা থেকে গোড়ালির অংশ খুবলে আলাদা করে নিয়েছে ইঁদুর। পায়ের সেই অংশ থেকে রক্তপাত হচ্ছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে সদ্যোজাতর বাবা কিষাণ ডাইমা জানিয়েছেন যে, তাঁর স্ত্রী সন্তানকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে দেখে এই পরিস্থিতি। কিন্তু যখন ইঁদুর কামড়াচ্ছিল, হাসপাতালের কর্মীরা কোথায় ছিলেন? সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তাঁর স্ত্রী হাসপাতালের কর্মীদের খবর দিলে, তাঁরা এসে তাঁদের সন্তানের প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। কিন্তু বাচ্চার দেখাশোনার জন্য ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালের কর্মীদের থাকার কথা থাকলেও, কেন তাঁরা ছিলেন না? সেই প্রশ্নও রেখেছেন কিষাণ ডাইমা।

এদিকে সূত্রের খবর, এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই, বিজেপি-শাসিত রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করেন। যদিও পরে, ঘটনার দায়ভার এড়াতে তড়িঘড়ি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নার্স ও ওয়ার্ডের দুই সাফাই কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে। এক নিরাপত্তা রক্ষীকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষীকে যে সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছিল, সেই সংস্থাকেও এক লক্ষ টাকার জরিমানার নোটিস পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এই বিষয়ে ওই হাসপাতালের সুপার ডঃ পি এস ঠাকুর জানিয়েছেন যে, গোটা ঘটনার তদন্তের জন্য একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যেই তাঁরা রিপোর্ট জমা দেবেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিশুটি প্রাথমিক চিকিৎসার পর বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা করছে।’

এদিকে, গোটা বিষয়টি জানতে পেরেই, মধ্যপ্রদেশের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি নরেন্দ্র কুমার জৈন ইন্দোরের বিভাগীয় কমিশনার ও স্বাস্থ্য দফতরের যুগ্ম অধিকর্তাকে ১৫ দিনের মধ্যে এই ঘটনার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।