কো-ভ্যাক্সিন না কোভিশিল্ড, কোন টিকায় তৈরি হচ্ছে বেশি অ্যান্টিবডি? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

কো-ভ্যাক্সিন না কোভিশিল্ড, কোন টিকায় তৈরি হচ্ছে বেশি অ্যান্টিবডি? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কো-ভ্যাক্সিন না কোভিশিল্ড, কোন টিকায় তৈরি হচ্ছে বেশি অ্যান্টিবডি? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

করোনা মোকাবিলায় দেশে চলছে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। ভারতে এখনও পর্যন্ত দুই ধরনের টিকাই দেওয়া হচ্ছে, কো-ভ্যাক্সিন এবং কোভিশিল্ড। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই দুই টিকার মধ্যে বেশি কার্যকর কোনটি? সম্প্রতি নতুন এক গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর ফলাফল৷ সেখানে দাবী করা হয়েছে কো-ভ্যাক্সিনের তুলনায় কোভিশিল্ড নিলে শরীরে তৈরি হচ্ছে বেশি অ্যান্টিবডি।

করোনা দুটি টিকা নেওয়ার পর এই গবেষণায় একদল অংশগ্রহণ করেছিলেন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। নেতৃত্বে ছিলেন এ কে সিং নামে একজন চিকিৎসক। তাঁদের মধ্যে কেউ নিয়েছিলেন কো-ভ্যাক্সিন টিকা। কেউ বা কোভিশিল্ড। তাঁদের শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির ভিত্তিতেই এই পরীক্ষাটি করা হয়। মোট ৩০৫ জন পুরুষ এবং ২১০ জন মহিলার উপরে এই পরীক্ষা করা হয়েছিল৷ যার মধ্যে ৪২৫ জন কোভিশিল্ড টিকা পেয়েছিলেন। বাকিরা কো-ভ্যাক্সিন প্রাপক।

কো-ভ্যাক্সিন না কোভিশিল্ড, কোন টিকায় তৈরি হচ্ছে বেশি অ্যান্টিবডি? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কো-ভ্যাক্সিন না কোভিশিল্ড, কোন টিকায় তৈরি হচ্ছে বেশি অ্যান্টিবডি? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

সেই গবেষণারই প্রাথমিক ফলাফল হিসেবে দেখা গিয়েছে, যাঁরা কোভিশিল্ড প্রাপক, তাঁদের শরীরে অ্যান্টি স্পাইক অ্যান্টিবডি টাইটারের উপস্থিতি কোভ্যাক্সিন প্রাপকদের তুলনায় বেশি৷ অর্থাৎ কো-ভ্যাক্সিনের তুলনায় কোভিশিল্ড টিকা নিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের শরীরে বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এঁদের মধ্যে ৯৫ শতাংশের শরীরে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর বেশি সংখ্যায় অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ টিকা দুটি ডোজ নিলে অ্যান্টিবডির পরিমাণ বাড়ছে।

তবে গবেষণায় এও বলা হয়েছে, দুটি প্রতিষেধকই করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যথেষ্ট সক্ষম। দুই ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার পরিমাণ বেশ ভালো। শুধু মাত্র অ্যান্টিবডি তৈরিতে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। গবেষকদের দাবী অনুযায়ী, কোভিশিল্ড নিলে শরীরে ৯৮.১ শতাংশ অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, কো-ভ্যাক্সিন নিলে অ্যান্টিবডির পরিমাণ হচ্ছে ৮০ শতাংশ। একই সঙ্গে বিশেষ এক ধরনের রক্ত পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কোভিশিল্ডের ক্ষেত্রে প্রতি মিলিলিটারে ১১৫ আরবিট্রারি ইউনিট অ্যান্টিবডি টাইটার মিলেছে৷ কো-ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে তা প্রতি মিলিলিটারে ৫১ আরবিট্রারি ইউনিট অ্যান্টিবডি টাইটার।

কো-ভ্যাক্সিন না কোভিশিল্ড, কোন টিকায় তৈরি হচ্ছে বেশি অ্যান্টিবডি? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কো-ভ্যাক্সিন না কোভিশিল্ড, কোন টিকায় তৈরি হচ্ছে বেশি অ্যান্টিবডি? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রসঙ্গত, এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার পরও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। কোভিশিল্ডের ক্ষেত্রে ৫.৫ শতাংশ এবং কো-ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে ২.২ শতাংশ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।