রেকর্ড সংখ্যক আবেদন স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য! আবেদন করছেন রাজ্যের বাইরে পাঠরত পড়ুয়ারাও

রেকর্ড সংখ্যক আবেদন স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য! আবেদন করছেন রাজ্যের বাইরে পাঠরত পড়ুয়ারাও
রেকর্ড সংখ্যক আবেদন স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য! আবেদন করছেন রাজ্যের বাইরে পাঠরত পড়ুয়ারাও

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ গত মাসের শেষদিন, অর্থাৎ ৩০ জুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সূচনা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, এবার থেকে পড়ুয়াদের বাবা-মায়েদের পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তার অবসান হবে। তাঁরা মন দিয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন। এবার আর অর্থ পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণের জন্য প্রয়োজন হলে, এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন পড়ুয়ারা। আর সেই ঋণের গ্যারেন্টার হবে খোদ সরকার। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই মিলেছে ব্যাপক সাড়া। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য রেকর্ড সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৩৫৫ কোটি টাকার ঋণ চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, রাজ্যে পাঠরত পড়ুয়াদের পাশাপাশি রাজ্যের বাইরে পাঠরত পড়ুয়ারাও আবেদন করেছেন।

৩০ জুন এই কার্ডের ঘোষণার পরই শিক্ষা দফতর বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নবান্ন সূত্রে খবর, ৯ জুলাই পর্যন্ত মোট আবেদন জমা পড়েছে ২৫,৮৪৭ টি। প্রায় ১৩৫৫ কোটি টাকার ঋণ চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে। মোট আবেদনকারীর মধ্যে ছাত্র রয়েছেন ১৬,৩৮৪ জন। ছাত্রীর সংখ্যা ৯,৪৬১। শুধু পশ্চিমবঙ্গের আবেদনকারী ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাই ১৯,৯৪৮ জন। বাইরে পড়াশোনা করেন এমন আবেদনকারীর সংখ্যা ৫,৮৯৯।

গত ৩০ জুন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ঘোষণা করে জানিয়েছিলেন যে, ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন পড়ুয়ারা। শুধুমাত্র দেশে নয়, বিদেশে পড়ার ক্ষেত্রেও এই ঋণ পাওয়া যাবে। তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, কোনও আবেদনকারী চাইলেই একবারেই ১০ লক্ষ টাকা ঋণ পেতে পারেন। আবার কেউ চাইলে, ধাপে ধাপেও প্রয়োজন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রী এই ঋণ পরিশোধের বিষয়ে জানিয়েছিলেন যে, উচ্চশিক্ষার জন্য ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পাবেন ছাত্রছাত্রীরা৷ সর্বোচ্চ ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণের আবেদন করা যাবে৷ তিনি কার্ডের উদ্বোধন করে বলেছিলেন, ‘আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আগেই সবুজসাথী, কন্যাশ্রী, ঐকশ্রী–সহ একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে। ভোটের আগে পড়ুয়াদের জন্য যে ক্রেডিট কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা চালু করা হল। টাকার অভাবে আর কারও লেখাপড়া বন্ধ হবে না।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, দশম থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা, গবেষণা, ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে এই কার্ডের মাধ্যমে লোন পাওয়া যাবে। এখানেই শেষ নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাঁরা, সেক্ষেত্রে তাঁরা কোচিংয়ের ফি-ও মেটানো যাবে এই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। এর বাইরে লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ, কোর্স ফি, হস্টেল ফি, বই কেনা যাবে। কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রেও এই কার্ডের মাধ্যমে মিলবে ঋণ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, শুধু রাজ্য বা দেশেই নয়, বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এই কার্ড থেকে মিলবে ঋণ। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি সমস্ত ব্যাংক থেকেই মিলবে অর্থ।

মুখ্যমন্ত্রী এই কার্ডের উদ্বোধন করে বলেছিলেন যে, ‘সরকার ক্ষমতায় এলে আমরা এটা করব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সারা বিশ্বে এতো বড় প্রকল্প এই প্রথম। কথা রাখাটাই আমাদের কথা। কথা রাখাতাই আমাদের কাজ। দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা ঋণ নিতে পারবে৷ এর জন্য কোনও গ্যারান্টার লাগবে না৷ রাজ্য সরকারই গ্যারান্টার থাকবে৷’ মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বাবা-মায়েদের আর কোনও চিন্তা থাকবে না, বাচ্চাদের মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াতে হবে না৷ ঋণ পাওয়ার জন্য জুতোর শুকতলা খুইয়ে যাবে না৷ ছাত্রছাত্রীদের বলব টাকা পয়সার কথা না ভেবে, মন দিয়ে পড়াশোনা করো৷ বাবা মায়েদেরও বলব চিন্তা করবেন না৷ আপনাদের স্বপ্নপূরণ হবেই৷ আপনাদের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করবে৷’

এই কার্ডে ঋণ পেতে পড়ুয়াদের সুবিধার জন্য, অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলাদা পোর্টাল করা হয় সেই আবেদন নেওয়ার জন্য। একইসঙ্গে কেউ চাইলে এগিয়ে বাংলা পোর্টাল কিংবা উচ্চশিক্ষা দফতরের পোর্টালেও আবেদন করতে পারেন।

জানা গিয়েছে, কার্ডের জন্য আবেদন জমা পড়ার পর, এই সকল পড়ুয়াদের আপলোড করা মার্কশিট, সার্টিফিকেট স্ক্রুটিনি করে দেখবে শিক্ষা দফতর। তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলেই, সেগুলো ব্যাঙ্কের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোর্সের জন্য আবেদন করছেন পড়ুয়ারা, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হবে শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে। এরপরই ব্যাঙ্ক থেকে সরাসরি সেই টাকা পৌঁছে যাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট বা উক্ত আবেদনকারী পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে।