শনিবার, ২১ মে, ২০২২

সরস্বতী পুজো এবং হাতে খড়ির সম্পর্ক! আজও চলে আসছে সেই সাবেকি প্রথা...

০৭:৫২ পিএম, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১

সরস্বতী পুজো এবং হাতে খড়ির সম্পর্ক! আজও চলে আসছে সেই সাবেকি প্রথা...
হাত পোহালেই বসন্ত পঞ্চমী। এই দিনেই বাঙালির 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'-এর অন্যতম, সরস্বতী পুজো। আর সরস্বতী পুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িয়ে রয়েছে সাবেকি এক প্রথা, হাতে খড়ি। অর্থাৎ প্রথম লিখতে শেখার পাঠ। বাঙালি তথা হিন্দুধর্মালম্বীদের ঐতিহ্য হিসাবে সগর্বে আজও চলে আসছে হাতে খড়ির প্রথা। যেটি না হলে শিক্ষার শুরুই যে হয় না! শিশুদের বিদ্যার সূচনা হওয়ার আগেই দেবী সরস্বতীর কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে হাতেখড়ি দেওয়ানো হয়। চক খড়ি এবং স্লেটের সাহায্যে লেখার শুভারম্ভ হয় শিক্ষার্থীদের। স্নান সেরে পরিষ্কার বসন পরে স্লেট এবং খড়ি হাতে দেবী সরস্বতীর সামনে বসে প্রথম লেখা শেখানো হয় তাকে। দায়িত্বে থাকেন বাড়ির বড় কেউ। যেহেতু সরস্বতী বিদ্যা এবং জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাই তাঁর পুজো করে তাঁকে সাক্ষী রেখে হাতেখড়ি দিলে শিশুটি হয়ে ওঠে বিদ্বান৷ এরকম এক বিশ্বাস থেকেই সেই সাবেক কাল থেকে বাঙালির ঘরে ঘরে চলে আসছে এই প্রথা। বর্তমানেও যদিও এর কোনও ব্যতিক্রম নেই। তবে আজকালকার স্মার্ট যুগে একটু হলেও এসেছে পরিবর্তন। এখন শিশুদের স্লেট এবং খড়িতে হাতেখড়ি দেওয়ার চল অনেকটাই কমে গিয়েছে। বদলে এসেছে রাইটিং প্যাড। এই প্রসঙ্গে প্রখ্যাত পুরাণবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি জানান, ‘আমি গত বছর পর্যন্ত বেশ কিছু বাচ্চার হাতেখড়ি দিইয়েছি। এই ঐতিহ্য কিন্তু বাঙালির মধ্যে কমেনি। যদিও বিভিন্ন শপিং মলে নানা ধরনের রাইটিং বোর্ড পাওয়া যায়। তবু সরস্বতী পুজোয় হাতেখড়ির আলাদা গুরুত্ব।’ তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকারও। তিনি বলেন,‘আমি ঢাকায় দেখেছি পয়লা বৈশাখ হাতেখড়ি দিতে। আসলে আমরা লিখতে শেখার জন্য একটা শুভ দিন খুঁজি। আমাদের এখানে সেটা সরস্বতী পুজো।’ ফলে বলা যায়, আজও সরস্বতী পুজোর দিন শিশুদের হাতেখড়ি না হলে, তার শিক্ষার শুরুই হয় না এমনটাই মনে করছেন বেশিরভাগ বাঙালিই। তাই, বসন্ত পঞ্চমীর সকালে খড়ি ধরা ছোট্ট এক হাত স্লেটের ওপর লিখে চলেছে প্রথম 'অ' 'আ'... এই দৃশ্য আজও বাঙালির কাছে বেশ চিরপরিচিত।