প্রতিযোগিতার ফাইনালে হেরে আত্মঘাতী ভারতীয় কুস্তির ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম গীতা ও ববিতার বোন রীতিকা!

প্রতিযোগিতার ফাইনালে হেরে আত্মঘাতী ভারতীয় কুস্তির ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম গীতা ও ববিতার বোন রীতিকা!
প্রতিযোগিতার ফাইনালে হেরে আত্মঘাতী ভারতীয় কুস্তির ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম গীতা ও ববিতার বোন রীতিকা! / ছবি সৌজন্যে- Tweeted By @PhogatRitu

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কুস্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে হেরে আত্মহত্যা করলেন কুস্তিগীর রীতিকা ফোগট। ভারতীয় কুস্তির ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম গীতা ও ববিতা ফোগট, তাঁদেরই তুতো বোন রীতিকা। রীতিকা নিজেও মাত্র ১৭ বছর বয়সেই স্বক্ষেত্রে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার তাঁর আত্মহত্যার খবরে শোকের ছায়া দেশের ক্রীড়ামহলে। জানা গিয়েছে, ভরতপুরে একটি কুস্তি প্রতিযোগীতার ফাইনালে পরাস্ত হওয়ার পরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তেমনটাই প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তাঁর নিকট আত্মীয়রা।

উল্লেখ্য এই কুস্তিগীর পরিবারের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে আমির খান পরিচালিত ‘দঙ্গল’ ছবিতে। কুস্তিগীর রীতিকাও এই পরিবারেরই সদস্য। রাজ্য স্তরের সাব-জুনিয়র বিভাগে খেলতেন রীতিকা। জানা গিয়েছে যে, মার্চ মাসের ১৪ তারিখে ভরতপুরে একটি প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা হয়। সেখানে মাত্র ১ পয়েন্টের জন্য পরাস্ত পরাজিত হন রীতিকা।

উল্লেখ্য, মহাবীর ফোগট অ্যাকাডেমির সদস্য ছিলেন রীতিকা। মহাবীর সিংহ ফোগটের হাতে প্রশিক্ষণ নেওয়া রীতিকার ফাইনালের দিনে দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন খোদ মহাবীর সিংও। হরিয়ানার মহাবীর ফোগট স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে পাঁচ বছর ধরে কুস্তি শিখছিলেন এবং অনুশীলন করেছিলেন। হরিয়ানার চরখি দাদরি জেলা পুলিশ সুপার রাম সিংহ বিশ্বনাই জানিয়েছেন যে, রীতিকার মৃত্যুর তদন্ত শুরু হয়েছে।

রীতিকার মৃত্যুর খবর প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন রাজ্য সড়ক পরিবহন ও জনপথ প্রতিমন্ত্রী বিজয় কুমার সিংহ। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় টুইট করে লেখেন যে, ‘ভয়াবহ সংবাদ যে, আমরা রীতিকা ফোগটকে হারিয়েছি, যার এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। অ্যাথলিটরা এমন চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন যা আগে ছিল না। তাদের প্রশিক্ষণের একটি অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত এই চাপগুলি্র মোকাবিলা করা’।

মহাবীর ফোগাট নিজে একজন অপেশাদার কুস্তিগীর ছিলেন এবং তাঁর বড় মেয়ে গীতা একজন ফ্রি স্টাইল রেসলার যিনি ২০১০ এর কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। তাই নয়, তিনি অলিম্পিকের (২০১২ লন্ডন গেমস) খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী প্রথম ভারতীয় মহিলা কুস্তিগীরও।

অন্যদিকে, ২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্য পদক, ২০১২ ওয়ার্ল্ড রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিল ববিতা এবং ২০১৪ এর কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। এমনই দুই বিখ্যাত কুস্তিগীরের বোন ছিলেন রীতিকা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.