ভাইফোঁটার সকালে খাস কলকাতায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! বাস পিষে দিল স্কুটি চালককে

ভাইফোঁটার সকালে খাস কলকাতায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! বাস পিষে দিল স্কুটি চালককে
ভাইফোঁটার সকালে খাস কলকাতায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! বাস পিষে দিল স্কুটি চালককে / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভাইফোঁটার সকাল মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঘটল কলকাতার বুকে। শনিবার হাইল্যান্ড পার্কের কাছে বাঘাযতীন উড়ালপুল থেকে নামার সময় একটি বেসরকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক স্কুটি চালককে সজোরে ধাক্কা মারে, চালক ছিটকে পড়লে, তাঁর উপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেয় বাসের চালক। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ওই স্কুটি চালকের। ঘাতক বাসটির চালক এবং কন্ডাক্টর প্রথমে পালানোর চেষ্টা করলেও কন্ডাক্টরকে আটক করেছে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুভজিত সুর নামের ওই স্কুটি আরোহীর বাড়ি গড়িয়া সাহাপাড়ায়। এদিন সকালে বাইপাস দিয়ে সায়েন্স সিটির দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। সকাল ৯ টা নাগাদ বাঘাযতীন উড়ালপুলে গড়িয়া স্টেশন থেকে বাগবাজারগামী ওই বেসরকারি বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে। বাইক থেকে পড়ে যান তিনি। উড়ালপুল থেকে নামার সময় বাসটি দ্রুত গতিতে আসার ফলে ব্রেক কষলেও, বাস থামাতে পারেনি চালক। ফলে ওই স্কুটার আরোহীর উপর দিয়েই চলে যায় বাসের চাকা। চাকার তলায় একপ্রকার পিষে যান শুভজিত সুর নামের ওই যুবক।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং বাসের যাত্রীদের অভিযোগ, স্কুটি আরোহীকে পিষে দেওয়ার পরেও, বাস থামাতে চায়নি চালক। বাসে সেই সময় প্রায় জনা পঞ্চাশেক যাত্রী ছিলেন। সকলেই বাস থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, কর্ণপাত করেননি চালক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চলন্ত বাস থেকেই ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায় সে। সেই সময় কোনওরকমে ওই বাসেরই এক যাত্রী গাড়িটিকে থামান। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায় গাড়িটিকে থামানো না গেলে, আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

এদিকে, ওই স্কুটি চালককে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে পূর্ব যাদবপুর ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকরা এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও, শেষরক্ষা করা যায়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বাসটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। চালকের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ। এই ঘটনায় বাসের বেশ কিছু যাত্রীও আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে বাসটির ব্রেক এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব যাদবপুর ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকরা ওই এলাকার সব সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, স্কুটারটির গতি স্বাভাবিক থাকলেও, বাসটির গতি বেশি ছিল।