‘রাণী রাসমণি’ সিরিয়ালে তুলে ধরা হচ্ছে ভুল তথ্য, বিকৃত হচ্ছে ইতিহাস! অভিযোগ সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের

‘রাণী রাসমণি’ সিরিয়ালে তুলে ধরা হচ্ছে ভুল তথ্য, বিকৃত হচ্ছে ইতিহাস! অভিযোগ সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের
‘রাণী রাসমণি’ সিরিয়ালে তুলে ধরা হচ্ছে ভুল তথ্য, বিকৃত হচ্ছে ইতিহাস! অভিযোগ সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ‘থিয়েটারে লোকশিক্ষে হয়’ এমনটাই বলেছিলেন রামকৃষ্ণদেব। তবে, আজকাল প্রায়শই এমন অভিযোগ শোনা যায় যে, ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক কাহিনী নির্ভর সিরিয়ালগুলিতে এমন কিছু দেখানো হয়, যেগুলি তথ্যগতভাবে ভুল বা চিত্রনাট্যকারের নিজের কল্পনাপ্রসূত বেশিরভাগটাই। যদিও ধারাবাহিক শুরুর সময়ই এও বলে দেওয়া হয় যে, তা একটি কাল্পনিক গল্প।

এবার এমনই অভিযোগ উঠেছে, জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক ‘রাণী রাসমণি’ সিলিয়ালকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, সিরিয়ালে ভুল তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে, পাশাপাশি ইতিহাসকেও বিকৃত করা হচ্ছে। আর এমন অভিযোগ উঠেছে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পক্ষ থেকে। বলা হয়েছে যে, কালীঘাট মন্দির এবং সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের যে ইতিহাস এই মেগা ধারাবাহিকে দেখানো হয়েছে, তাতে অনেক ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে। এমনই দাবি করেছেন খোদ সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরীর।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে দেবর্ষি রায়চৌধুরীর জানিয়েছেন যে, এই সিরিয়ালে বাকি যা দেখানো হয়েছে, সে নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। কিন্তু তাঁদের পরিবারের প্রসঙ্গে যা দেখানো হয়েছে বা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণরূপে ভুল।

ঠিক কী ধরনের ভুলের কথা বলছেন তিনি? তাঁর অভিযোগ, এই ধারাবাহিকের ১৪৫ নম্বর পর্ব থেকে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দুটি চরিত্রের অন্তর্ভুক্তিকরণ হয়েছে। এই পর্বের পরে প্রায় ১২ টি পর্ব ধরে ওই চরিত্রগুলির মাধ্যমে যা যা দেখানো হয়েছে, তাতে অনেক ভুল তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি কালীঘাট মন্দির প্রসঙ্গ ও মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সন্তোষ রায়চৌধুরীর চরিত্রায়ণেও ভুল রয়েছে বলে অভিযোগ পরিষদের।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী আর জানিয়েছেন যে, সিরিয়ালে ‘টাইমলাইন’ সংক্রান্ত বড় ধরনের ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে। সিরিয়ালে দেখানো হয়েছে যে, সন্তোষ রায়চৌধুরী নিজে রাসমণির শ্বশুরবাড়ি গিয়ে, তাঁকে কালীঘাটের মন্দিরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলছে। ইতিহাস অনুযায়ী, রাসমণির বিয়ে হয় ১৮০৪ সাল নাগাদ। এর ৫ বছর আগেই প্রয়াত হন সন্তোষ রায়চৌধুরী। একে অপরের সঙ্গে কখনও সাক্ষাৎই হয়নি। মন্দিরের সম্পূর্ণ হওয়াটাও দেখে যেতে পারেননি প্রতিষ্ঠাতা। পরে তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করেন তাঁর নাতি রাজীবলোচন রায়চৌধুরী। কাজেই এই পুরো হিসেবটাই সিরিয়ালে ভুল দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও আরও নানা ভুল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সে কথাও জানিয়েছেন দেবর্ষি রায়চৌধুরী। যেমন- দেখানো হয়েছে যে, কালীঘাটের ব্রহ্মশিলা আদিগঙ্গার ধারে পড়ে রয়েছে। পরে কাপালিকরা পুজো করে তাতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করছেন। সেই সময় রানি রাসমণিকে নৌকাপথে আসতেও দেখা যায়। কিন্তু শিলাখণ্ডের ওই ঘটনা ১৫৭০ সালের। যা রাসমণির জন্মের প্রায় আড়াইশো বছর আগের ঘটনা! তাছাড়া সেই সময় কালীঘাট মন্দির সংলগ্ন এলাকায় যেমন বনজঙ্গল দেখানো হয়েছে, তাও ইতিহাসের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। কেননা ততদিনে কালীঘাট নামক রাস্তাটি তৈরি হয়ে গিয়েছে।

এমনই নানা ভুল তথ্যের কথা তুলে, অভিযোগ করেছেন সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পরিষদ এবং এর সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী। তাঁদের মতে, সেরকম দরকার হলে, সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে, চিত্রনাট্য লেখা যেতে পারত। তাতে এমন ভুল তথ্য দর্শকরা দেখত না এবং ইতিহাসও বিকৃত হত না।