ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুলল বিজেপি!

ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুলল বিজেপি!
ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুলল বিজেপি!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ চলতি মাসের ৩০ তারিখ ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপনির্বাচন উপলক্ষে তৃণমূলের প্রচার চলছে জোরকদমে। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই পরিস্থিতিতে এবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুলল বিজেপি। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি লিখলেন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের নির্বাচনী এজেন্ট সজল ঘোষ।

মঙ্গলবার ভবানীপুর কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি লিখে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ দাবি করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মনোনয়নে তথ্য গোপন করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসমের ৫ টি থানায় এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়। সেই থানাগুলি হল, গীতানগর, পান বাজার, জাগিরোড, নর্থ লখিমপুর সদর এবং উধারবন্দ থানা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনয়নপত্রে এই ফৌজদারি অভিযোগগুলির কোনও উল্লেখ করেননি বলে চিঠিতে জানিয়েছেন সজল ঘোষ।

এখানেই শেষ নয়, চিঠির সঙ্গে উল্লিখিত মামলাগুলির সম্পর্কে সংবাদপত্রের লেখাও জুড়ে দিয়েছেন সজল ঘোষ। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নের দিনই বিজেপি ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁদের প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের নাম ঘোষণা করে। প্রিয়াঙ্কাও ইতিমধ্যেই তাঁর মনোনয়ন পেশ করেছেন। পাশাপাশি জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে বিজেপির প্রচারও। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে প্রার্থী নির্বাচন করার অন্যতম কারণ, ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলা হয়। এই কেন্দ্রে গুজরাতি, পঞ্জাবি, বিহারি-সহ প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার অবাঙালি। হিন্দিভাষীদের কথা মাথায় রেখেই, এই কেন্দ্রে বিজেপি তাঁদের প্রার্থী নির্বাচন করেছে বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে। প্রিয়াঙ্কা একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এণ্টালি থেকে দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু হেরে যান। এবার মমতা বিরুদ্ধে ভবানীপুর কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছেন।

প্রিয়াঙ্কা প্রচারে বেরিয়ে দাবি করেছেন যে, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও যাবেন ভোট চাইতে। তবে, ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, প্রিয়াঙ্কার কোনো জনভিত্তি নেই এবং ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। যদিও প্রিয়াঙ্কা নিজেকে হেভিওয়েট প্রার্থী বলেই মনে করছেন এবং জয়ের ব্যাপারেও যথেষ্ট আশাবাদী।

ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি উভয়পক্ষই যখন জয়ের ব্যাপারে নিজেদের সুর চড়াচ্ছে, তখন প্রিয়াঙ্কার নির্বাচনী এজেন্ট সজল ঘোষের এই চিঠি ভবানীপুরের উপনির্বাচনের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।