প্রতি রাতে মোবাইল ঘাঁটার জন্য বকাবকি মা-বাবার! রাগে আত্মঘাতী বছর সতেরোর ছাত্রী

প্রতি রাতে মোবাইল ঘাঁটার জন্য বকাবকি মা-বাবার! রাগে আত্মঘাতী বছর সতেরোর ছাত্রী
প্রতি রাতে মোবাইল ঘাঁটার জন্য বকাবকি মা-বাবার! রাগে আত্মঘাতী বছর সতেরোর ছাত্রী

মোবাইল আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ, এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলতেই থাকবে। তবে বর্তমান যুব সমাজের কাছে এ যে এক আসক্তির বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে তা বলাই বাহুল্য। সামান্য মোবাইলের জন্য প্রাণ হারাচ্ছেন একাধিক কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী। এবার সেরকমই আরেকটি ঘটনার সাক্ষী হল রাজ্য। মোবাইল ঘাঁটতে বাধা দেওয়ায় আত্মঘাতী হল হাওড়ার স্কুল পড়ুয়া এক ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে, হাওড়ার পর্ণশ্রী পল্লীতে। জানা গিয়েছে, ছাত্রীটির নাম দীপ্তি পাইক। বয়স ১৭। পর্ণশ্রী সারদা বিদ্যাপীঠ স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী দীপ্তি গতকালই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা দিয়ে আত্মঘাতী হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ইদানীং মোবাইলের প্রতি তীব্র নেশা তৈরি হয়েছিল দীপ্তির। প্রায় প্রতি রাতেই মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করত সে। তা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন মা-বাবা। মেয়েকে বকাবকিও করেছেন বহুবার। তাতেও লাভ হয়নি। এই নিয়ে দীপ্তিকে মোবাইল দেখায় বাধা দিলে রাগে দুঃখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে। গত কাল বাড়িতে ছিলেন না দীপ্তির মা-বাবা। দুপুর তিনটের সময় মা যখন বাড়িতে ফেরেন, তখন দেখেন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে দড়ি বেঁধে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে দীপ্তি।

মেয়েকে ওই অবস্থায় দেখা মাত্রই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন দীপ্তির মা। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। এরপর দীপ্তিকে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ইতিমধ্যেই ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে মোবাইল দেখায় বাধা দেওয়ার কারণেই আত্মঘাতী হয়েছে ওই ছাত্রী। তবে এর পিছনে অন্য কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।