পরিকল্পনায় ফাঁক থাকা চলবে না, করোনাকে রুখতে মুখ্যমন্ত্রীদের কোমর বেঁধে নামার পরামর্শ মোদীর

পরিকল্পনায় ফাঁক থাকা চলবে না, করোনাকে রুখতে মুখ্যমন্ত্রীদের কোমর বেঁধে নামার পরামর্শ মোদীর
পরিকল্পনায় ফাঁক থাকা চলবে না, করোনাকে রুখতে মুখ্যমন্ত্রীদের কোমর বেঁধে নামার পরামর্শ মোদীর / Screengrab from Facebook Video Posted By @narendramodi

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে করোনা ভাইরাস। করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা আবার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে দেশের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে। এই পরিস্থিতিতে ফের একবার সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর, বুধবার বেলা ১২ টায় শুরু হয় এই ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।

এদিন এই ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, পরিকল্পনায় কোনও ফাঁক রাখা চলবে না। কোনও ফাঁক বা খামতি থাকলে দ্রুত তা পূরণ করতে হবে। হাতে সময় আর নেই। তাই এখনই তিনি প্রত্যেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের করোনাকে রুখতে কোমর বেঁধে কাজ শুরু করে দেওয়ার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনতাই সবকিছু। জনতাই করোনাকে দমন করতে পেরেছে। তাই তাদেরকে আবার সঠিক পথে চালিত করে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আটকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিলেন।

তিনি বলেন যে, ”প্রতিটি রাজ্যের মানুষকে বোঝাতে হবে। করোনার লড়াইয়ে আমরা যেখানে পৌঁছেছি এবং তার জন্য যে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছি, তার যেন কোনভাবেই অপব্যবহার করা না হয়। যেন ‘ওভার কনফিডেন্স’ না তৈরি হয় জনতার মধ্যে। সমস্যা ঠিক কথায় হচ্ছে? তা খুঁজে বার করে, সমাধান করতে হবে। সেই সমস্যা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, প্রতিটি পরিকল্পনায় রাজ্যের নিজেদের প্রয়োগ থাকতে হবে। গত বছর এ সংক্রান্ত যে প্রশিক্ষণ হয়েছে। এখন সেই প্রশিক্ষণকে মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। রুখতে হবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রয়োজন পড়লে মাইক্রো কনটেইনমেন্ট জোন তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে প্রয়োজনে প্রত্যেক রাজ্যে পুরোনো সুরক্ষাবিধি চালু করার কথাও বলেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন করোনা টেস্ট কম হচ্ছে, কেন পর্যাপ্ত টিকাকরণের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেই দিকে আরও বেশি করে নজর দিতে হবে। RTPCR টেস্টের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি করোনা সংক্রমণকে রুখতে গত বছরের উদাহরণ টেনে আনেন। উল্লেখ করেন যে, বছর পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে রক্ষা পেয়েছিল গ্রামগুলি। কিন্তু এখন পরিবহণ চালু রয়েছে। সেক্ষেত্রে শহরতলি ও গ্রাম গুলিতে করোনা পরীক্ষা ও টিকাকরণে জোর দিতে হবে।

এদিন তিনি বৈঠকে আরও বলেন, মাস্ক পরায় অনীহা দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে। এ ব্যাপারে এখনই সতর্ক করতে হবে রাজ্যের মানুষকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ‘মনে রাখবেন, ঠাণ্ডা লেগে যাতে সর্দি কাশি না হয়, তার জন্য আমরা ওষুধ খাই। কিন্তু শীতের জায়গায় গেলে গরম পোশাকও ব্যবহার করি। এমনটা মনে করি না যে, ওষুধ খেয়েছি বলে ঠান্ডা লাগবে না। ঠিক তেমনই, ভ্যাকসিন নিয়েছেন মানে মাস্ক পরবেন না বা সুরক্ষাবিধি মেনে চলবেন না এমনটা কিন্তু কখনই নয়’।

অন্যদিকে, রাজ্যে রাজ্যে করোনার সংক্রমণ আটকাতে বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের প্রতি অতিরিক্ত নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘নিজের রাজ্যে করোনা মিউটেন্ট করে কোন পথে এগোচ্ছে সে বিষয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। তার জন্য জিনোম টেস্টে জোর দিতে হবে। ১ বছর পর এখন দেশের হাতে করোনাকে পরাস্ত করার শক্তিশালী অস্ত্র ভ্যাকসিন রয়েছে। তাই সেই অস্ত্র এখন কোনভাবেই নষ্ট করা যাবে না। এক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, বহু রাজ্যে যেমন কেরল, উত্তরপ্রদেশে ভ্যাকসিন নষ্ট হচ্ছে। সেদিকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে সেই রাজ্যকেই। ভ্যাকসিনের ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদী বলেন যে, এক্সপেয়ারি ডেট সম্পর্কে অবগত হতে হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের। যে সমস্ত ভ্যাকসিনের এক্সপেয়ারি ডেট আগে, সেই ভ্যাকসিনগুলি আগে দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে অবিলম্বে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.