৭ থেকে ১১ বছর বয়সীদের উপর কোভোভ্যাক্সের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ছাড়পত্র পেল সিরাম!

৭ থেকে ১১ বছর বয়সীদের উপর কোভোভ্যাক্সের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ছাড়পত্র পেল সিরাম!
৭ থেকে ১১ বছর বয়সীদের উপর কোভোভ্যাক্সের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ছাড়পত্র পেল সিরাম! / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সুখবর! এবার ৭ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুদের উপর করোনার টিকা কোভোভ্যাক্স-এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ছাড়পত্র পেল সিরাম। এর সঙ্গে সঙ্গে টিকাকরণের দৌড়ে এবার নাম লেখাল সেরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া।

উল্লেখ্য, মার্কিন বায়োটেকনোলজি সংস্থা নোভাভ্যাক্সের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যৌথ প্রচেষ্টায় করোনার টিকা কোভোভ্যাক্স তৈরি করেছে পুনের সিরাম ইন্সটিটিউট। সেই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ক্ষেত্রে এবার ৭ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি পেল সিরাম। এটিই দেশের তৃতীয় টিকা হতে চলেছে, যা শিশুদের উপর পরীক্ষামূলক ট্রায়াল শুরু করেছে। এর আগে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন ও জ়াইডাস ক্যাডিলার জ়াইকোভ-ডি ভ্যাকসিনেরও ট্রায়াল শুরু হয়েছে শিশুদের উপর।

উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই মাসে কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটি সেরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়াকে ১২ থেকে ১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীদের উপরে কোভোভ্যাক্সের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে অনুমতি দিয়েছিল। বর্তমানে সেই ট্রায়াল চলছে। প্রথম ১০০ জনের ক্ষেত্রে সেই প্রতিষেধক কত দূর সুরক্ষিত বলে প্রমাণিত হয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য তারা ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে জমাও দিয়েছে। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ৭ থেকে ১১ বছর বয়সীদেরও ট্রায়াল শুরু করা হচ্ছে। গতকালই বিশেষজ্ঞ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ৭ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের উপর কোভোভ্যাক্সের টিকার ট্রায়াল চালানোর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুযায়ী, এবার সেরাম সংস্থা স্বেচ্ছাসেবকদের বেছে নিতে পারবে।

করোনা সংক্রমণের জেরে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রের সমস্ত স্কুল-কলেজ। ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যেই স্কুল খুলে গেলেও, বাচ্চাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা এবং আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, এই কারণেই এবার দ্রুত শিশুদেরও করোনা টিকাকরণ শুরু করতে চায় কেন্দ্র। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একটি বৈঠকে সেরাম কর্তা আদার পুনাওয়ালা জানিয়েছিলেন, অক্টোবর মাসেই বাজারে কোভোভ্যাক্সের দুই ডোজ়ের করোনা টিকা আনা হবে। ডিসিজিআইয়ের অনুমোদন মিললেই আপাতত ১৮ উর্ধ্বদের টিকাকরণ শুরু করা হবে। আগামী বছরের প্রথম ভাগের মধ্যে শিশুদের টিকা উৎপাদনও শুরু হবে বলেই তিনি আশাবাদী বলে জানিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছরের অগস্ট মাসেই মার্কিন বায়োটেকনোলজি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে সেরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া। এরপরই দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রোটিন ভিত্তিক করোনা টিকা উৎপাদন শুরু হয়। প্রথম ঠিক করা হয়েছিল ১০০ কোটি টিকা উৎপাদন করা হবে, পরে সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করা হয়। ২০০ কোটি টিকা উৎপাদনের চুক্তি হয়।

এরপর চলতি বছরের মে মাস থেকে দেশে সেরাম সংস্থা কোভোভ্যাক্স টিকা উৎপাদন শুরু করে। তবে, এক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত  সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়নি যে, কত টিকা তারা উৎপাদন করেছে। জানা গিয়েছে যে, কোভোভ্যাক্সের পাশাপাশি কোভিশিল্ডের উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি মাসে কয়েক কোটি টিকা উৎপাদন করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, কোভিশিল্ডের মতো কোভোভ্যাক্সও নিম্ন ও মধ্য আয়যুক্ত দেশগুলিতে কোভ্যাক্সের অধীনে সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। গতমাসেই নোভাভ্যাক্সের তরফে জানানো হয়, তাদের তৈরি করোনা টিকা ১০০ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে করোনার মাঝারি বা ভয়ঙ্কর সংক্রমণের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে, এই টিকার কার্যকারিতা ৯০.৪ শতাংশ।