আবহাওয়ার পারদ চড়তেই তীব্র জলসংকট! প্রতিবাদে বিজেপি প্রার্থীকে ঘেরাও মালদহের চাঁচলে

আবহাওয়ার পারদ চড়তেই তীব্র জলসংকট! প্রতিবাদে বিজেপি প্রার্থীকে ঘেরাও মালদহের চাঁচলে
আবহাওয়ার পারদ চড়তেই তীব্র জলসংকট! প্রতিবাদে বিজেপি প্রার্থীকে ঘেরাও মালদহের চাঁচলে

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহঃ সামনেই একুশের নির্বাচন, আর বেশি দিন বাকি নেই। আর ঠিক এই সময়, ভোটের মুখে পানীয় জল না পাওয়ার যন্ত্রণার কথা জানালেন মুসহর সম্প্রদায়ের বধূরা। জল সমস্যায় মালদহের চাঁচল বিধানসভার মকদমপুর অঞ্চলের আশ্বিনপুর গ্রামে ৫০-এর বেশি পরিবারের বাস। তাঁদের দাবি ছিল, পানীয় জলের সমস্যা না মিটলে, তারা ভোট নাও দিতে পারেন।

বুধবার চাঁচল বিধানসভার বিজেপির প্রার্থী দীপঙ্কর রাম ভোট প্রচারে আশ্বিনপুরে প্রবেশ করতেই, গ্রামের গৃহবধূরা ঘেরাও করে নিজেদের কষ্টের কথা জানাতে থাকেন। তাঁদের এলাকার জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁদের যে, পানীয় জলের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, ভোট যায়, ভোট আসে, কিন্তু তাঁদের সমস্যা যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই আছে। ভোট মিটতেই, আবার জলের কষ্টে ভোগেন তাঁরা। তাই উপায় না দেখেই, বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে ধরেন তাঁরা। মূলত, এই গ্রামে কয়েকটা নলকূপ থাকলেও, খড়াতে তা বিকল হয়ে যায়। এমনকি বর্তমানে একটি কলও বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। মেরামতের হেলদোল নেই কারও। বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে বসলেও ওই গ্রামে বসেনি একটাও সাব-মার্সিবল। তাই রীতি মতো ক্ষোভ ফুঁসছে গোটা গ্রামবাসী।

এক গৃহবধূ কাদিয়া ইদিয়াসরের অভিযোগ, এলাকার অন্যত্র পানীয় জল পৌঁছালেও, তাঁদের এলাকায় বারো মাস পানীয় জলের জন্য কষ্ট ভোগ করেন তাঁরা। জলের কষ্টে কোনোরকমে দিন গুজরান করতে করতে, তাঁরা নাজেহাল, বিরক্তও। গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূর, ভগবানপুরে জল আনতে যেতে হয়। সেখানেও আবার সমস্যা রয়েছে। জল আনতে গিয়ে গ্রামবাসীদের থেকে কটু কথা শুনতে হয় বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

এদিন ক্ষোভের মুখে পড়ে, বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর রাম বলেন, স্বাধীনতার ৭০ বছর পার হলেও, জল সমস্যা রয়েছে বাংলায়। এটা দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, তাঁদের সমস্যা কথা শুনলাম। তাঁরা দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার। তার মধ্যে জলের সমস্যা, এক কিমি দূরে জল আনতে যেতে হয়। এ ব্যাপারে পুরোপুরি রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার দিকেই নিশানা করেছেন তিনি।

তাঁর দাবি, বিজেপি বাংলার মসনদে বসলে, এই প্রান্তিক অসহায় মানুষদের প্রথমে বিকাশ ঘটানো হবে। এদিকে পাল্টা জবাবে মকদম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সভাপতি সাহাজান আলি বলেন, ‘তৃণমূল সরকার জল সমস্যা মেটানোর জন্য রাজ্যে জল ধরো জল ভরো প্রকল্পের সূচনা করেছেন। তবে, মকদম অঞ্চল বিজেপি কংগ্রেসের আওতায়। তাঁরা যদি স্কীম না ধরে কীভাবে সাব-মার্সিবল বসবে।’ তিনি আরও বলেন যে, ‘বিজেপি ত্রিপুরা সহ দেশের ১৭ টি রাজ্যে ক্ষমতায় আছে। ওখানে কী বিকাশ ঘটিয়েছেন তাঁরা। এখানে ভোট নেওয়ার জন্য গ্রামে ঢুকে জুমলাবাজি করছে বিজেপি।’ মানুষ জোড়াফুলকেই সঙ্গে নেবে এবং পদ্মফুলকে প্রত্যাখ্যান করবে বলেও দাবি করেছেন তৃণমূলের সাহাজান আলি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.