গানে-গানে ব্রিগেডের প্রতিজ্ঞা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা বাম যুবদের

গানে-গানে ব্রিগেডের প্রতিজ্ঞা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা বাম যুবদের
ফাইল ছবি

গানে-গানে ব্রিগেডের প্রতিজ্ঞা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বাম যুবরা।বামেদের আর কোনও অস্তিত্ব নেই এখানে। বা, সিপিএম এ রাজ্যে এখন নিছক সাইনবোর্ড। এ ধরণের কথা তাঁরা মানতে একেবারেই নারাজ। তাঁরা নিশ্চিত, ২৮ ফেব্রুয়ারির ব্রিগেড-ঘোষণার পরে বাম-রাজনীতির অতি বড় শত্রুও সম্ভবত এটা মানতে বাধ্য হবেন যে, বামেরা কিন্তু জেগে উঠেছে। হঠাৎ করেই তারা যেন গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। নিজেদের আদর্শ-লড়াই-অতীত সবটা ফিরে ফিরে তুলে ধরছে।

ব্রিগেডের আগে বাংলার হারানো জমি ধরতে সেই আইপিটিএ-মডেলেই ফিরল বামেরা। সেটা করতে গিয়ে কখনও ভিডিয়ো, নাটক, শর্ট ফিল্ম; কখনও স্রেফ গান বা কোরিওগ্রাফি। এবং সবটাই ব্রিগেড সমাবেশের প্রচারের দিকে তাকিয়ে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক টুম্পা নাচ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। তবে, সেটির প্রমোদমূলক অবদান ও শিল্পসম্মত ভাবনা কেউ অস্বীকার করতে পােননি।

এই সূত্রেই পাওয়া গেল অভিনব এক ‘ফ্ল্যাশ মব’। এর গীতিনাট্য এবং কোরিওগ্রাফি জয়রাজ ভট্টাচার্যের, কন্ঠ এবং সুর অর্ক মুখার্জির। পরিবেশনাটির একেবারে শেষে ওঠে এই দু’টি নাম। পরিবেশনটি শুরু হচ্ছে কতগুলি কাটা-কাটা ইমেজ দিয়ে। আউটডোরে পতপত করে উড়ছে বামেদের লাল পতাকা, তারপরই ক্যামেরা ভেতরে ঢোকে। সেখানে কখনও মুজফফর আহমেদের ফোটো, কখনও ঘরের মধ্যে নাচ-গানের মহড়া, কখনও আলোচনারত কিছু মুখ। সঙ্গে নানারকম মুখভঙ্গী। ততক্ষণে পর্দাজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে গান।

যে-গানে বামেদের অতীত ইতিহাসের সূত্রে উঠে আসে নানা প্রতিজ্ঞার আঁচ। যে-প্রতিজ্ঞার শেষ হয় ২৮-এর ব্রিগেডে চলার ডাক দিয়ে। সেখানে সন্ধ্যাশহরের ব্যস্ত পথে এক ঝাঁক তাজাতরুণের মুষ্টিবদ্ধ হাত আর সুরসংগত কণ্ঠের সমাবেশ। যেখানে শোনা যায় এমন চরণ–‘আমরা খাটি কারখানায় মেহনতি ইনসান/ আমরা গড়ি ইমারত আমরা ভানি ধান’। অতীতে নগরে-বন্দরে লড়াইয়ের সেই সুদূরদিনের ঝাঁজ যেন ফুটে উঠছে এই গানের ছত্রে ছত্রে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.