দিনে দুপুরে নিউটাউনে গুলির লড়াই, পুলিসের গুলিতে মৃত্যু দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতীর

দিনে দুপুরে নিউটাউনে গুলির লড়াই, পুলিসের গুলিতে মৃত্যু দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতীর
দিনে দুপুরে নিউটাউনে গুলির লড়াই, পুলিসের গুলিতে মৃত্যু দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতীর / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কলকাতা শহরের বুকে এককথায় নজিরবিহীন ঘটনা। নিউটাউনের বহুতল আবাসনে শ্যুটআউট। যেন বাটলা হাউস এনকাউন্টারের ছায়া এবার কলকাতার বুকে।

নিউটাউনের বহুতল আবাসনে গা ঢাকা দিয়েছিল দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী। তাঁদের খোঁজেই এদিন দুপুরে, অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশ ও এসটিএফের বিশাল বাহিনী। সঙ্গে ছিল বিধাননগর পুলিশও। কুখ্যাত গ্যাংস্টারকে ধরতে গেলে, পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। বিপদের আশঙ্কা করে, পাল্টা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। প্রকাশ্যে, বলা যায় একেবারে বলিউডি কায়দায় চলে বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই। দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন এসটিএফের ওসি। তিনি নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের পাল্টা গুলিতে পাঞ্জাবের এক কুখ্যাত গ্যাংস্টার জয়পাল সিং ভুল্লারের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও এক দুষ্কৃতীর।

এই ঘটনার পর গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ওই আবাসনে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার দুপুর ৩ টে নাগাদ, যৌথবাহিনী বহুতল আবাসনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। পুলিশ আবাসনের ওই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট ঘিরে ফেলতেই, গুলি চালাতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। এরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে পাল্টা গুলি ছোড়া হয়। এই মুহূর্তে ঘটনাস্থলে রয়েছেন কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। রয়েছেন এসটিএফের শীর্ষ কর্তারাও।

পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ভিনরাজ্যের ‘দুষ্কৃতী’রা এই এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল। মূলত আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত ছিল। আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালানের ডিল ফাইনাল করতেই তারা এ রাজ্যে এসেছিল বলে সূত্রের খবর। পুলিশের একটি সূত্রের আরও দাবি, বিহার থেকে বীরভূম হয়ে এ রাজ্যে আগ্নেয়ান্ত্র পাচার করা হচ্ছিল। কয়েক দিন আগে এই চক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। তাকে জেরা করার পরেই এই দুই দুষ্কৃতীর সন্ধান পায় পুলিশ।

ধৃতদের থেকেই পুলিশ জানতে পারে, নিউটাউনের উক্ত বহুতলেই ঘাঁটি গেড়েছে পাঞ্জাব-হরিয়ানার এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা। গত দুদিন ধরে তাদের খোঁজ চালাচ্ছিল এসটিএফ। শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে এদিন নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে হানা দেয় পুলিশ। সূত্রের খবর, নিহত ২ গ্যাংস্টারের নাম জসপ্রীত জসসি এবং জয়পাল সিং ভুল্লার। এর মধ্যে ভুল্লারের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে পুলিশ কর্মীকে খুনের অভিযোগও রয়েছে। এই এবং জয়পাল সিং ভুল্লার আবার মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিল বলে জানা গিয়েছে। এদের কাছে একাধিক অস্ত্র আছে বলে পুলিশের অনুমান।

উল্লেখ্য, এই জয়পাল সিং ভুল্লার পঞ্জাবে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় জড়িত। জয়পাল নিজে ও তার গ্যাং-এর লোকেরা অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পঞ্জাবে তাদেরই গ্যাং প্রকাশ্যে পুলিশকর্মীকে খুন করে। এরপর থেকেই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ এই দুষ্কৃতীদের খোঁজ করছিল পাঞ্জাব পুলিশ। কিন্তু তারা কীভাবে কলকাতার এসে এভাবে দিনের পর দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকল, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

এদিকে, কলকাতার অভিজাত এলাকায় দিনের আলোয় এই ধরনের গোলাগুলি চলার ঘটনা সাম্প্রতিককালে একপ্রকার নজিরবিহীন বলা যায়। পাশাপাশি এদিন দুপুরে নিউটাউনে যা ঘটল, তাতে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত এবং তার সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা তাঁদের কাছে অপ্রত্যাশিতও ছিল।