শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে বেঁফাস মন্তব্য! কুণালের বিরুদ্ধে কাঁথি আদালতে মানহানির মামলা দায়ের

শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে বেঁফাস মন্তব্য! কুণালের বিরুদ্ধে কাঁথি আদালতে মানহানির মামলা দায়ের
শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে বেঁফাস মন্তব্য! কুণালের বিরুদ্ধে কাঁথি আদালতে মানহানির মামলা দায়ের

শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে বেঁফাস মন্তব্যের জের। বৃহস্পতিবার কুণাল ঘোষের নামে মানহানির মামলা করলেন শুভেন্দুর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। কাঁথি আদালতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় দায়ের হয়েছে মামলাটি। শুভেন্দুর উদ্দেশ্যে ‘শালীনতা ছাড়িয়ে মন্তব্য’ করেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র, যা তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়। এই অভিযোগে কুণালের নামে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার নন্দীগ্রামের গোকুলনগরে শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে ‘বেইমান’, ‘অকৃতজ্ঞ’, ‘জানোয়ার’, ‘এক বাপের ব্যাটা’ ইত্যাদি বেলাগাম ভাষায় আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ। এদিন বিরোধী দলনেতার উদ্দেশ্যে কুণাল বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী তুমি যদি এক বাপের ব্যাটা হও, নন্দীগ্রাম থেকে তোমায় আমরা উচ্ছেদ করে ছাড়ব। শুভেন্দু হঠাও, নন্দীগ্রাম বাঁচাও, শুভেন্দু হঠাও, গদ্দার হঠাও।”

আরও কড়া ভাষায় কুণাল ফের মন্তব্য করেন, “তৃণমূল খারাপ? তোমরা সমস্তটা ভোগ করেছ, তারপর তুমি তোমার মায়ের পিঠে ছুরি মেরেছ। রিকাউন্টিং ঠেকাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে শুভেন্দু, রিকাউন্টিং হলে ২২ হাজার ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখান থেকে জিতবেন। শুভেন্দু অধিকারীকে এই মাটি থেকে ঘাড় ধরে তাড়াব, লোডশেডিং করে ভোট জেতা?” পাশাপাশি শুভেন্দুকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী একটা অকৃতজ্ঞ, বেইমান, জানোয়ার। সে বলে পাঠিয়েছে শহিদ বেদিতে মালা দিতে চান। বিজেপিতে নাম লেখানোর পর হঠাৎ হিন্দু হয়ে গেল।”

এখানেই থামেননি কুণাল। শুভেন্দুর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “শুভেন্দু তো মুসলমানদের জেহাদি বলেছে। এখন কেন শহিদ বেদিতে মালা দিতে আসবে? এই শহিদ বেদিতে মুসলমানেরও রক্ত রয়েছে। কোন লজ্জায় তুমি আসবে? আমরা ফিরোজা বিবিকে শহিদ মাতা বলি, তুমি কী বলবে জেহাদির মা? এই সব মানুষ নরকের কীট। শহিদের রক্ত বেঁচে নিজে রাজনৈতিক কেরিয়ার তৈরি করেছে শুভেন্দু।”

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার মানহানির মামলা করলেন শুভেন্দুর ভাই। সৌমেন্দুবাবুর কথায়, “গতকাল কুণাল ঘোষ নন্দীগ্রামে যে মন্তব্য করেছেন তাতে আমার ও আমার পরিবারের মানহানি হয়েছে। তাই বিচার চাইতে আদালতে এসেছি। এখন দেখি উনি হাজিরা দিতে আসেন কিনা।” এদিকে, সৌমেন্দুবাবুর আইনজীবী অনির্বাণ চক্রবর্তী জানান, দ্রুত সমন পৌঁছে যাবে অভিযুক্তের কাছে। যদিও এ বিষয়ে কুণাল ঘোষের মন্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে পেছন থেকে ছুরি মেরে গিয়েছে তাকে আর কী বলব! অকৃতজ্ঞ, গদ্দার একজন! মামলা করেছে করুক। সব আদালতে দেখে নেব!”